ঢাকা শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
৩৩ °সে


শিমুলিয়া ঘাটে উচ্ছেদ অভিযানে গুলি, গাড়ি ভাঙচুর

শিমুলিয়া ঘাটে উচ্ছেদ অভিযানে গুলি, গাড়ি ভাঙচুর
মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়- ইত্তেফাক

মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে ৪টি গাড়ি। এক ব্যক্তিকে আটক করে ১৫দিনে জেল দেয়া হয়েছে। বুধবার বিআইডব্লিউটিএর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ। সারাদেশে বিআইডব্লিউটিএর জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হয়। বুধবার দুপুরে লৌহজং থানা পুলিশ ও শিমুলিয়া নৌ পুলিশের সহযোগিতায় এ অভিযান চলে। বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান এই অভিযান পরিচালনা করেন। দু’দিনব্যাপী এই অভিযানের প্রথম দিনেই শতাধিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ফোর মার্ডার ঘটনায় গ্রেফতার ২

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা ১১ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টার মধ্যে অবৈধ স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়। এর আগে নোটিশ করলেও কেউ স্থাপনা সরিয়ে নেননি। তাই বুধবার সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিএর একটাভেটর (ভ্যাকু) দিয়ে শতাধিক স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। দুপুর ১টা থেকে অভিযান শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযান চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এ সময় শতাধিক টংঘর ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসাইন, ওসি (তদন্ত) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তাবৃন্দ। অভিযানের পূর্বে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাবিরুল ইসলাম খান ঘাটে এসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে সাক্ষাত করে তাকে সহযোগিতা করেন।

দুপুরে অভিযান শুরুর পর একের পর এক দোকান ঘর গুড়িয়ে দিচ্ছিল বিআইডব্লিউটিএর বিশালাকার ভেকু। প্রথম শুধু টং ঘর উচ্ছেদের কথা বলা হলেও হোটেল রেস্টুরেন্টসহ একের পর এক গুড়িয়ে দেয়া হয় ঘাটের সব দোকান পাট। বিকেলে ঘাটে দক্ষিণ দিকে নিরালা হোটেলের কাছে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বিআইডব্লিউটিএর আভিযানিক দলের উপর হামলা চালায় তারা। এ সময় তারা একটি মাইক্রো, একটি প্রাইভেট কারসহ দুটি বাস ভাংচুর করে। তাদের দাবি নিরালা হোটেলের ওই পাশে জায়গা ব্যক্তি মালিকানার। বিআইডব্লিউটিএ অবৈধভাবে এ দোকানঘরগুলো উচ্ছেদ করছিল। বিক্ষোভকারীরা বিআইডব্লিউটিএর ১টি টিনশেড যাত্রী ছাউনি ও ট্রাফিক পুলিশের কন্ট্রোলরুমও ভাঙচুর করে। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলি চালায়।

লৌহজং থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন জানান, ভাঙচুরের অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে মো. ওয়াহিদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে ১৫ দিনের জেল দেন বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে ৪ রাউন্ড রাবার বিলুট নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আগামীকাল আবারো উচ্ছেদ অভিযান চলবে।

এ দিকে দোকানদাররা অভিযোগ করেন, তাদের কোন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া হয়নি। এ উচ্ছেদ অভিযানের সময় কথা হয় কয়েকজন দোকানদারের সাথে। তারা জানান, ঘাট আরও ২ বছর আছে ,এর পরেই পদ্মা সেতু চালু হবে ,তখনতো আর ঘাট থাকবে না, এমনিতেই তাদের উঠে যেতে হবে। এ রকম অবস্থায় মানবিক বিচার না করে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে তারা বেকার ও পথে বসে যাবে।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের নির্দেশে বুধবার এ অভিযান চালানো হয়। এখানে বৈধ অবৈধ মিলে কয়েক শতাধিক খাবার হোটেলসহ বিভিন্ন প্রকার দোকান ঘর রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ সকল অবৈধ দোকান ঘর উচ্ছেদ করবে। বিকেলে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশ জনতাকে শান্ত করতে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এসময় এক ব্যক্তিকে ভাঙচুরের অভিযোগে আটক করে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের জেল দেয়া হয়েছে। আগামীকালও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেফাক/এমআরএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন