ঢাকা সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


ট্রেন দুর্ঘটনা: ‘মনে হয়েছিল যেন বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে’

ট্রেন দুর্ঘটনা: ‘মনে হয়েছিল যেন বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কাউছার। ছবি: ইত্তেফাক

‘হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনের যাত্রীদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। মনে হয়েছিল যেন বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। পুরো ট্রেন তখন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ভেতর থেকে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। চোখের সামনে তখন অনেকের মৃত্যু হতে দেখি। এরপর স্থানীয়রা উদ্ধার করে কসবা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরে জখম গুরুতর হওয়ায় আমাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।’

বুধবার দিবাগত পৌনে রাত ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে আন্ত:নগর ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও চট্টগ্রামগামী আন্ত:নগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে আহত যাত্রী সিএনজি চালক কাউছার (২৮) ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই বর্ণনা করেন। কাউছার হবিগঞ্জের সদর উপজেলার উত্তর শ্যামলী গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে।

তিনি আরও জানান, শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন থেকে তিনি ও তার মামাতো ভাই আন্ত:নগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলেন। মামাতো ভাই ইয়াসিন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে মারা গেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

কুমিল্লা জজকোর্টে একটি মামলার হাজিরা দিতে আসছিলেন মৌলভীবাজারের আবদুস ছোবহান, তার শ্যালক সফিক ও ভাই আবদুস ছালাম। দুটি ট্রেনের সংঘর্ষের সময় অন্য যাত্রীদের সহায়তায় তিনি ও তার সঙ্গে অপর ২ জন বেরিয়ে আসেন।

তিনি জানান, তাদের পাশের একটি বগি সংঘর্ষের সময় উপরে উঠে যাওয়ায় অনেকের কান্নার শব্দ শুনতে পান। ভোর রাত হওয়ায় তখন স্টেশনে তেমন লোকজন ছিল না। সময় মতো উদ্ধার না হওয়ায় অনেকেই মারা যান।

এদিকে সিলেটে মাজার জিয়ারত শেষে মা, স্ত্রী, মেয়ে ও ভাগ্নের বউসহ পরিবারের ৫ জনকে নিয়ে একই ট্রেনে চাঁদপুরের হাইমচরের ঈশানবালা গ্রামের বাড়িতে ফিরছেলেন জাহাঙ্গীর আলম (৪৫)।

তিনি জানান, মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, কারও পা নেই, কারও মাথা থেকে মগজ বেরিয়ে গেছে। স্থানীয়রা টেনে আমাকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। তবে পরিবারের অপর ৪ সদস্য কোথায় আছে, বেঁচে আছে কিনা তা তিনি জানেন না। এ সময় কুমিল্লা পুলিশ সুপার আহতদের দেখতে হাসপাতালে আসলে তিনি পরিবারের ৪ সদস্য বেঁচে আছে কি না, কিংবা কোথায় আছে তা খুঁজে বের করার অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন: বাঞ্ছারামপুরে বাচ্চু হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

এদিকে দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ওই ৩ জন ছাড়া অপর ১০ জনকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরা হচ্ছেন- সুনামগঞ্জের রেজাউল করিম, চাঁদপুরের হাসান, রোজিনা আক্তার, জুবায়ের, রোজিনা বেগম, হবিগঞ্জের মুক্তা, সুমন, নাছিমা, ফিরোজা ও শ্রীমঙ্গলের সেনেল।

কুমেক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সফিউল জানান, ১৩ জনকে আহত অবস্থায় এ হাসপাতালে আনা হয়। এদের মধ্যে ১০ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুরের ফারহানা আক্তার (১০) নামের এক শিশু জরুরী বিভাগে নিয়ে আসার পর মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

আহতদের দুপুরে দেখতে এসে কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এ হাসপাতালে যে ৩ জন ভর্তি রয়েছেন তাদের চিকিৎসার খরচ জেলা পুলিশ থেকে বহন করা হবে।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে একই হাসপাতালে আহতদের দেখতে আসেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। এ সময় জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, আহতদের প্রতিজনকে ১০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএএম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন