ঢাকা রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
৩০ °সে


মৌসুমের শুরুতেই ভেজাল গুড়ে সয়লাব পুঠিয়া

মৌসুমের শুরুতেই ভেজাল গুড়ে সয়লাব পুঠিয়া
ফাইল ছবি

শীতে রসনার অন্যতম অনুষঙ্গ গুড়। বিশেষ করে এ সময়ে খেজুর রস থেকে তৈরি গুড়ের জুড়িমেলা ভার। শীতের আগমনের শুরুতে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা জুড়ে গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস আহরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে স্বল্প পরিসরে আগাম রস আহরণ করে গুড় তৈরি শুরু করেছেন অনেকেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেশি লাভের আশায় অসাধু গাছিরা খেজুরের রসে চিনিসহ বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছেন। চলছে পুরোদস্তুর বিক্রিবাট্টা। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, জেলার সবচেয়ে বেশি খেজুরের গুড় উৎপাদন হয় পুঠিয়ায়। তবে কি পরিমাণ খেজুরের বাগান বা গাছ রয়েছে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই কৃষি অফিসে। কৃষি অফিস বলছে, প্রতিবছর যত্রতত্র ভাবে নতুন নতুন খেজুরের গাছের জন্ম হচ্ছে। আবার চাষিরা পুরনো গাছ গুলো কেটে ফেলছেন।

পুঠিয়া সদর এলাকার গাছি আলমগীর হোসেন বলেন, এখন বাজারগুলোতে যে গুড়গুলো কেনাবেচা হয় তার মধ্যে দুএকজন বাদে সব গুড়ে ভেজাল রয়েছে। এটা গত কয়েক বছর থেকে শুরু হয়েছে। চিনির দাম কম ও খেজুরের গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় গাছিরা গুড়ে ব্যাপক হারে চিনি ও কেমিক্যাল মেশাচ্ছে। এছাড়া আরও কয়েকটি উপকরণ রয়েছে যা মেশালে গুড় গুলোর দেখতে সুন্দর দেখায় ও শক্ত রাখে।

আরও পড়ুন: শহীদ মিনার বেদিতে লাকড়ির স্তূপ

এদিকে মৌসুমের শুরুতে খেজুরের গুড়ে ভেজাল দেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি বানেশ্বর বাজারে অভিযান চালিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওলিউজ্জামান। অভিযান চলাকালে তিনি গুড়ে ভেজাল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি সেখানে এক লাখ ৩৭ হাজার টাকা মূল্যের ৮৩ ঝুড়ি ভেজাল খেজুরের গুড় জব্দ করেন। পরে ভেজাল গুড় ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদের দায়ে বাজারের মেসার্স আমীন ট্রেডার্সের মালিক আমির হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করেন।

গুড় আড়ৎদার আসলাম হোসেন বলেন, এ অঞ্চলের খেজুরের গুড় দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে কিনে প্যাকেটজাত করে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে থাকি। তবে গুড়ে চাষিরা কি কি ভেজাল মিশ্রণ করেন তা আমরা জানি না। তবে চাহিদা মোতাবেক দেখতে সুন্দর ও শক্ত গুড় বেশি কেনাবেচা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওলিউজ্জামান বলেন, শুধু হাটবাজার বা আড়তেই নয়, ভেজাল প্রতিরোধে প্রয়োজনে গুড় উৎপাদনকারী চাষিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে।

ইত্তেফাক/এসি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন