দ্রাবিড়ের শহর ইন্দোরে কাল টেস্ট শুরু

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০১:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  জান-ই-আলম, ইন্দোর থেকে

কাল ইন্দোরে শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত প্রথম টেস্ট। ফাইল ছবি।

ভরদুপুরে নেমেছিলাম ইন্দোরের দেবী অহল্যা বাই হোলকার বিমানবন্দরে। সূর্য মধ্যগগণে থাকলেও হেমন্তকাল বলেই কি না রোদ অত চড়া নয়। অটোচালক রাধে গন্তব্যে নিয়ে যেতে যেতে ইন্দোর শহরটার অল্প-বিস্তর বর্ণনা দিলেন। রাধে গর্বভরেই প্রথমে বললেন, টানা তিন বছর (২০১৭, ২০১৮, ২০১৯) ভারতের ‘ক্লিন সিটির’ স্বীকৃতি ইন্দোরের দখলে। শহরের রাস্তাঘাটে যার ছাপ স্পষ্ট।


ইন্দোরের বিখ্যাত মানুষের কথা উঠতেই এই অটোচালকের মুখে প্রথমে উঠে আসল, বলিউড অভিনেতা সালমান খানের নামটা। বক্স অফিস কিং, ভাইজান, সাল্লু—অনেক নামেই ডাকা হয় ৫৩ বছর বয়সি সালমানকে। ইন্দোরে বাড়ি আছে, মাঝে মাঝে আসা-যাওয়া হলেও এই অভিনেতার বসতি এখন মুম্বাইয়ে। ৫৩০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের শহরটা অবশ্য আরো অনেক সফল মানুষকে বুকে ধরেছিল। ভারতবর্ষে সংগীত জগতের কিংবদন্তি কিশোর কুমারের বাড়ি আছে এই শহরে। কোকিলকণ্ঠী লতা মঙ্গেশকার, হালের পলক মুচালও জন্মেছেন এখানে।

বাংলাদেশ-ভারত প্রথম টেস্ট আগামীকাল ইন্দোরেই শুরু হচ্ছে। মধ্য প্রদেশের শুনসান এই শহরটাতে অবশ্য দুই প্রতিবেশি দেশের সাদা পোশাকের লড়াই নিয়ে তেমন উন্মাদনা চোখে পড়েনি। তবে ভারতীয় ক্রিকেটের আলোচনাতেও ইন্দোরের অবস্থান বেশ পোক্ত। বিদেশের মাটিতে ভারতের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান (১১২, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ১৯৩৬) সৈয়দ মুশতাক আলীও ইন্দোরের। যার নামেই এখন ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে একটি টি-২০ টুর্নামেন্ট রয়েছে।

‘দ্য ওয়াল’ খ্যাত রাহুল দ্রাবিড়ের জন্মও ইন্দোরে। ভারতের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক সিকে নাইডুর মৃত্যু (১৯৬৭ সালে) হয়েছে এই শহরে। লেগ স্পিনার নরেন্দ্র হিরওয়ানিওর ক্রিকেটার হিসেবে বেড়ে ওঠাও এখানে।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে শিশু মহিমা, সারিতে মায়ের লাশ

ইন্দোরে কোহলি-মুমিনুলদের টেস্ট জমে ওঠবে কি না তা সময়ই বলে দিবে। টেস্টের এক নম্বর দল ভারতের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করবে নয় নম্বর দল বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিঠুনের কথায় তেমন কিছুর আভাসই পাওয়া গেল। গতকাল হোলকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ভারতের মাটিতে খেলা সবার জন্যই কঠিন, যেটা আমাদের জন্যও বড়ো চ্যালেঞ্জ। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব।’

টি-২০ সিরিজটায় ২-১ এ হেরেছে বাংলাদেশ। তবে ক্ষুদে ফরম্যাটের একটি জয় আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে টাইগারদের। মিঠুন বলেছেন, ‘যখন আমরা এখানে আসি তখন হয়তো কেউ আসা করেনি যে আমরা ভারতকে টি-২০ তে হারিয়ে দিব, তাও আবার ওদের মাটিতে। কিন্তু আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশ্বাসটা ছিল। আমরা যখনই মাঠে নামি প্রতিপক্ষ কঠিন হোক বা সহজ হোক সবার সঙ্গে জেতার জন্য নামি। কখনো হয় আবার কখনো হয় না।’

ইত্তেফাক/এসি