ঢাকা বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
৩০ °সে


অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পেল না পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পেল না পাকিস্তান
নয় বছর পর দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলো অস্ট্রেলিয়া [ছবি: সংগৃহীত]

নয় বছর পর দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেলো অস্ট্রেলিয়া। আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তানকে ১০ উইকেটে হারায় অসিরা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। দেশের মাটিতে সর্বশেষ ২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচের সিরিজ জিতেছিলো অস্ট্রেলিয়া।

পার্থে টস জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট হাতে নেমে তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। প্রথম দুই ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরি করা নতুন অধিনায়ক বাবর আজম এবার আর নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ১টি চারে ৬ রান করে অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের বলে লেগ বিফোর হন বাবর।

বাবর ফিরলে তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নামেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান। পরের ডেলিভারিতেই রিজওয়ানকে বোল্ড করে হ্যাট্রিকের সুযোগ তৈরি করেন স্টার্ক। কিন্তু হ্যাট্রিকের স্বাদ নিতে পারেননি। রিজওয়ান শূন্য হাতে ফিরলে দলীয় ১৫ রানে ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

দ্রুত ২ উইকেট হারানোর চাপ সামলে উঠার আগেই পাকিস্তান শিবিরে তৃতীয় আঘাত হানেন অস্ট্রেলিয়ার আরেক পেসার সিন অ্যাবট। দু’অংকে পা দেয়া আরেক ওপেনার ইমাম উল হককে বিদায় দেন অ্যাবট। ১৫ বলে ১৪ রান করেন ইমাম।

২২ রানে ইমামের বিদায়ে পাকিস্তানকে চাপমুক্ত করার চেষ্টা করেন হারিস সোহেল ও ইফতেখার আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের উপর মারমুখী হবার চেষ্টা করেছিলেন ইফতেখার। অন্যপ্রান্তে সর্তক ছিলেন সোহেল। এই জুটিতে দলের স্কোর অর্ধশতকে পৌছায়। তবে ১০ম ওভারের প্রথম বলে সোহেল-ইফতেখার জুটিতে ভাঙ্গন ধরান অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার অ্যাস্টন আগার। ৮ রান করে আউট হন সোহেল।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার পেসার কেন রিচার্ডসনের পেস তোপে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা যাওয়া-আসার মিছিল করেন। তাতে ৯২ রানে অষ্টম উইকেট হারায় পাকিস্তান। পরের দিকে কোন ব্যাটসম্যানই দু’অংকের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। অর্থাৎ পাকিস্তানের পুরো ইনিংসে ইমাম ও ইফতেখার ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যানই দু’অংকের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি।

ইফতেখারের ৬টি চারে ৩৭ বলে ৪৫ রানে শেষ পর্যন্ত শতরানের কোটা পেরিয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৬ রানের মামুলি সংগ্রহ পায় পাকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ডসন ১৮ রানে ৩টি, স্টার্ক-অ্যাবট ২টি করে উইকেট নেন।

জবাবে ১০৭ রানের সহজ লক্ষ্যে নিজেদের ইনিংস শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। আজ ব্যাট হাতে মারমুখী মেজাজ দেখান অসি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তার ব্যাটিং-এ পাওয়ার প্লেতে ৫৬ রান তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এসময় ২০ বলে ৩১ রান করেন ফিঞ্চ। তার সঙ্গী ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে এসেছিলো ১৬ বলে ২২ রান।

নিজেদের ব্যাটিং নৈপুণ্য ধরে রেখে ১১ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান শতরানে নিয়ে যান ওয়ার্নার-ফিঞ্চ। তখন দু’জনই হাফ-সেঞ্চুরির দোঁড়গোড়ায় ছিলেন। দলও ছিলো জয় থেকে ৭ রান দূরে। ১২তম ওভারের পঞ্চম বলে বাউন্ডারি মেরে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১১তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফিঞ্চ। আর ঐ বাউন্ডারিতে অস্ট্রেলিয়ার জয়ও নিশ্চিত হয়।

ফিঞ্চ ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩৬ বলে ৫২ ও ওয়ার্নার ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৫ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন সিন অ্যাবট। আর সিরিজ সেরা হন স্টিভেন স্মিথ।

টি-টোয়েন্টি লড়াই শেষে আগামী ২১ নভেম্বর থেকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান। প্রথম টেস্ট ব্রিসবেনে ও দ্বিতীয় ম্যাচ অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত হবে।

ইত্তেফাক/এমআর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন