ঢাকা বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
২৫ °সে


লেবানন :অর্থনৈতিক নীতি ও ধর্মীয় বিভেদই সংকটের কারণ

লেবানন :অর্থনৈতিক নীতি ও  ধর্মীয় বিভেদই সংকটের কারণ
লেবাননে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানী বৈরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা —এএফপি

বেশ কিছুদিন ধরে লেবাননে চলছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এত বড়ো বিক্ষোভ হয়নি সেখানে। এরই মধ্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তাতেও শান্ত হননি বিক্ষোভকারীরা। তারা দেশের রুগ্ন অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং দুর্নীতির অবসান চান। বিক্ষোভকারীরা দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চান। ধর্মের ভিত্তিতে ক্ষমতার ভাগাভাগির যে ব্যবস্থা দেশটিতে এখন রয়েছে, সেটিরও পরিবর্তন চান তারা।

লেবাননের জন্য অক্টোবর মাস বেশ ঘটনাবহুল ছিল। সরকারও একের পর এক সমস্যা নিয়ে নাকাল হচ্ছিল। শুরুতে লেবাননের আমদানিকারকরা অভিযোগ করেন, দেশটির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে মার্কিন ডলারের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। ফলে লেবানিজ পাউন্ড ডলারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছে না। গম এবং জ্বালানি আমদানিকারকরা যখন দাবি তোলেন, তাদের ডলারে অর্থ শোধ করতে হবে, তখন দেশটির পেট্রোল স্টেশন এবং বেকারি শিল্প ধর্মঘটে চলে যায়। এর কয়েকদিন পরেই সরকার তামাক, পেট্রোল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজিং সার্ভিসের মাধ্যমে ভয়েস কলের ওপর কর বাড়িয়ে দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে মাসে ছয় মার্কিন ডলার দিতে হবে। এই ঘোষণার পরই বৈরুতে বিক্ষোভ শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সরকার কর প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু এর মধ্যদিয়ে দেশটিতে বছরের পর বছর ধরে চলা অসন্তোষ নতুন করে উঠে আসে। পরদিন প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পদত্যাগের দাবিতে লেবাননের হাজার-হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে যোগ দেয়। -খবর বিবিসি বাংলার।

লেবানন এর ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে এখন। দেশটির ঋণের ভার ক্রমে বাড়ছে, তবু আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠীদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্যাকেজ নিয়ে সরকার নানান অর্থনৈতিক সংস্কার করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষরা বলছেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা এবং দেশের অর্থনৈতিক নীতি-নির্ধারণীর বলি হিসেবে তারা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

দেশটির সংকটের আরেকটি বড়ো কারণ ধর্মীয় বিভেদ। লেবাননে রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি পদ সংখ্যাগুরু ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত হবে। রাষ্ট্রপতি সবসময় হবেন একজন ম্যারোনাইট খ্রিষ্টান অর্থাত্ বিশেষ গোষ্ঠীর সিরীয় খ্রিষ্টান। পার্লামেন্টের স্পীকার হবেন একজন শিয়া মুসলমান এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন একজন সুন্নি মুসলমান। পার্লামেন্টের ১২৮টি আসনও সমানভাবে খ্রিষ্টান এবং মুসলমানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করতে গিয়ে প্রায়শই সুশাসনের ব্যাপারে ছাড় দিতে হয় রাজনৈতিক নেতাদের।

২০০৫ সালে বোমা হামলায় প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি নিহত হবার পর লেবাননে বড়ো বিক্ষোভ হয়েছিল। কিন্তু এবারের আন্দোলন কিছুটা ব্যতিক্রমী। এবারের আন্দোলন একেবারে তৃণমূল থেকে উঠে এসেছে এবং তাদের নির্দিষ্ট কোনো নেতা নেই। কেবল সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহিতার দাবি তুলছেন না তারা, নিজ নিজ ধর্মীয় গোষ্ঠীকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন