ঢাকা শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২০ °সে


রক্ষণাত্মক বাংলাদেশে হোয়াটমোরের আক্ষেপ

রক্ষণাত্মক বাংলাদেশে  হোয়াটমোরের আক্ষেপ

স্পোর্টস ডেস্ক

কোচ হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে লড়াই করার আত্মবিশ্বাসটা প্রথম দিয়ে গিয়েছিলেন ডেভ হোয়াটমোর। ২০০৭ বিশ্বকাপে এই হোয়াটমোরের জাদুতেই গ্রুপ পর্ব থেকে বাংলাদেশ দল বিদায় করে দিতে পেরেছিল তারকাখচিত ভারতীয় দলকে। এমন কি বাংলাদেশ যখন প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতেছিল তখনো কোচ ছিলেন এই লঙ্কান বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান কোচ। হোয়াটমোর এখন কোচ হিসেবে আছেন কেরালা দলের সঙ্গে। ফলে বর্তমানে ভারত সফরে থাকা বাংলাদেশ দলের হালহকিকত ভালোভাবেই জানা আছে তার। হোয়াটমোর মনে করেন, রক্ষণাত্মক মানসিকতাই ইন্দোর টেস্টে বাংলাদেশের ভরাডুবির কারণ। একই সঙ্গে পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যর্থতাকেও দুষলেন শ্রীলঙ্কাকে ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া এই কোচ।

তিনি টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘হারের অন্যতম কারণ অবশ্যই রক্ষণাত্মক মনোভাব। মোহাম্মদ শামিদের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ওপেনাররা বলের নাগালই পাচ্ছিল না। ফলে ভারতের জন্য চাপ দেওয়াটা সহজ ছিল। আমার সময়ে এমন হতো না। আমার কথা ছিল স্পষ্ট—হারতে রাজি আছি, কিন্তু লড়াই করে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রাখতে হবে।’

যদিও টস জিতে মুমিনুল হকের ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘সাহসী’ বলেই মন্তব্য করলেন তিনি। তবে সেই সাহসটা আদতে মাঠে কাজে না লাগাতে পারায় সাবেক শিষ্যদের প্রতি হতাশ এই কোচ। বললেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটি সাহসী ছিল। কিন্তু সেই সুযোগটা কাজে লাগায়নি বাংলাদেশ। বলা উচিত, কোনো চেষ্টাও দেখা যায়নি দলটির মধ্যে। আমার ধারণা ছিল ইমরুল কায়েস ওর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে। কিন্তু সেও হতাশ করল।’ তবে হোয়াটমোরের মতে, ভারতের বিপক্ষে টেস্টে হারটা প্রত্যাশিতই ছিল। বললেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এমন ফলটা আসলে প্রত্যাশিতই ছিল। প্রথমত, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়া ওরা খেলতে নেমেছে, ফলে খেলাটাই এখানে বড়ো একটা পরীক্ষা। আর দ্বিতীয়ত ভারতীয় দলের ব্যাপারে নতুন করে বলার কিছু নেই। ওরা বিশ্বে যে কারো চেয়েই শক্তিশালী। কদিন আগেই তো দেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে দিল। আর ভারতই এখন উপমহাদেশের একমাত্র দল—যারা দেশের ভেতরে ও বাইরে সমান ভালো খেলে।’

হোয়াটমোর মনে করেন, সীমিত ওভারের মতো টেস্টেও আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে বাংলাদেশকে। বললেন, ‘ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দল যে মনোভাব নিয়ে খেলে, টেস্টে সেটা অনুপস্থিত। প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও সাকিব-তামিম ছিল না। কিন্তু সেটা ওরা বুঝতেই দেয়নি। একই কাজটা টি-টোয়েন্টিতেও করতে হবে। এখন বাংলাদেশের সময় এসেছে টেস্টকেও উপভোগ করার।’টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা বড়ো হার দিয়ে শুরু করল বাংলাদেশ। এই অবস্থা যাতে অব্যাহত না থাকে তার জন্য হোয়াটমোরের পরামর্শ হলো পেস বোলিংয়ে উন্নতি আনা। তিনি বলেন, ‘পেস বোলিংয়ে আরো উন্নতি আনা বাংলাদেশের জন্য এখন সময়ের দাবি। আবু জায়েদ (রাহি) ভালো প্রতিভা। কিন্তু এবাদত হোসেন অনেক বেশি শর্ট বল করে।’ হোয়াটমোর মনে করেন, ভালো করার ক্ষেত্রে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভূমিকা রাখা উচিত, তারাই তো পারেন ছোটোদের উত্সাহিত করতে। তিনি বলেন, ‘দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের নিজেদের অনুকরণযোগ্য করে তুলতে হবে। ভালো ইনিংস খেলে ছোটোদেরও আরো ভালো করার ব্যাপারে উত্সাহিত করতে হবে। উইকেটে থিতু হয়েও বড়ো ইনিংস খেলতে না পারাটা অপরাধ। বড়ো ইনিংস না খেলে উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসলে স্বপ্ন অধরাই থাকবে।’

স্পিনারদেরও আরো বেশি শৃঙ্খলামাফিক বোলিং করা উচিত বলে মত দিলেন হোয়াটমোর। তিনি বললেন, ‘এটা তো ড্যানিয়েল ভেট্টোরির (বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ) কাজ। আমি কি বলবো। তাইজুল-মিরাজরা বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইন আপের বিরুদ্ধে বোলিং করেছে। ওদের আরো বেশি শৃঙ্খলামাফিক বোলিং করা উচিত ছিল।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন