ঢাকা শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭
১৯ °সে

কমিশন সভায় ক্ষুব্ধ চার কমিশনার

আলাদাভাবে আলোচনার প্রস্তাব দিলেন সিইসি
কমিশন সভায় ক্ষুব্ধ চার কমিশনার

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের ওপর কর্তৃত্ব ও সাম্প্রতিক ৩৩৯টি পদের নিয়োগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ক্ষুব্ধ হয়ে কড়া বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন চার জন নির্বাচন কমিশনার। কমিশন সচিবালয় নির্বাচন কমিশনারদের অপমান ও চ্যালেঞ্জ করেছে—এমন অভিযোগও তুলেছেন তারা। সচিবালয়ের স্বেচ্ছাচারিতা ও মিথ্যাচারের বিহিত না হলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ারও ঈঙ্গিত দেন কেউ কেউ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় সচিবালয়ের বিরুদ্ধে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কমিশনাররা। ক্ষুব্ধ বক্তব্যের এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে আলাদাভাবে এ বিষয়ে সিইসি বৈঠক করবেন বলে আশ্বস্ত করলে শান্ত হন তারা। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্র ইত্তেফাককে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, দুই ঘণ্টার বেশি চলা এ বৈঠকের এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। অনেকটা অভিন্ন সুরে বক্তব্য রাখেন চার কমিশনার। তাদের বক্তব্য ছিল লিখিত। তাদের অপমান করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। সভায় একজন কমিশনার বলেন, ইসি সচিবালয়ের বর্তমান স্বেচ্ছাচারিতা ও মিথ্যাচারের বিহিত না হলে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করা প্রায় অসম্ভব। একজন কমিশনার বলেন, সিইসি অন্য কমিশনারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে আইন অনুযায়ী কমিশনকে এগিয়ে নেবেন এটাই তারা প্রত্যাশা করেন। সভায় একজন কমিশনার তার বক্তব্যে বলেন, নিয়োগ নিয়ে আমার এক ইউওনোটের (আনঅফিসিয়াল নোট) উত্তরে কমিশন সচিবালয় থেকে যে উত্তর দেওয়া হয়েছে তা নির্বাচন কমিশনারগণের চরিত্র হননের অপচেষ্টা মাত্র।

নির্বাচন কমিশনারদের বক্তব্যের পর সিইসি তাদের উদ্দেশে বলেন, এসব বিষয় নিয়ে আমরা (কমিশনাররা) নিজেরা আলাপ করব। এখন এজেন্ডাভিত্তিক আলোচনা করুন। পরে কমিশন সভার পাঁচ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্প্রতি ৩৩৯ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয় ইসি সচিবালয়। এ নিয়োগের বিষয়ে চার কমিশনারকে কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে চার কমিশনার গত ২৪ নভেম্বর সিইসিকে একটি চিঠি দেন। তাতে তারা অভিযোগ করেন, চার কমিশনারকে আর্থিক বিষয়সহ অনেক বিষয়ে জানানো হয় না। ঐ চিঠি দেওয়ার পর থেকে সিইসির সঙ্গে চার কমিশনারের এক সঙ্গে বসা বা কথা হয়নি। বুধবারের বৈঠক ছিল এক সঙ্গে তাদের প্রথম সাক্ষাত্। এর আগে গত সোমবার সিইসি একটি চিঠিতে চার কমিশনারের বক্তব্যের জবাব দেন। তাতে একটি অংশে বলা হয়, কমিশনারদের সুপারিশ করা কয়েক জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার সময় ভুয়া (প্রক্সি) হিসেবে ধরা পড়েন। একজন কমিশনার গতকালের বৈঠকে এ বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এটা মিথ্যাচার।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে চার কমিশনারের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব মো. আলমগীর বলেন, অভ্যন্তরীণ অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বলা যাবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন