ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৭
২৪ °সে

রুম্পার বন্ধু সৈকত গ্রেফতার, মামলা ডিবিতে

রুম্পার বন্ধু সৈকত  গ্রেফতার,  মামলা ডিবিতে

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার তার বন্ধু আব্দুর রহমান সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা দপ্তরে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ বিভাগ) উপ-কমিশনার (ডিসি) রাজিব আল মাসুদ। তিনি বলেন, ২২ বছর বয়সি সৈকত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিবিএ ক্লাসের ছাত্র। সৈকত স্বীকার করেছে, রুম্পা তার বন্ধু। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় রুম্পার সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তিনি জানান, সৈকত এক সময় স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। পরবর্তীতে সে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ভর্তি হয়। ডিসি বলেন, সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তিনি জানান, রুম্পা হত্যা মামলাটি তদন্তভার গতকাল রাতে ডিবিতে ন্যস্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। সূত্র জানায়, রুম্পার সঙ্গে সৈকতের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল গত কয়েক মাস ধরে। কিন্তু সম্প্রতি তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

রুম্পার ভাই আশরাফুল আলমের সন্দেহ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আর রুম্পার সাবেক প্রেমিককে নিয়ে সন্দেহের কথা বলেছেন তার সহপাঠী এক বান্ধবী। এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি ও সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীদের দাবি, রুম্পা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হত্যা রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।

রুম্পা থাকতেন মালিবাগের শান্তিবাগ বাসায়। কিন্তু তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বাসা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা স্থান থেকে। কে বা কারা কীভাবে তাকে সিদ্ধেশ্বরীতে নিয়ে গিয়েছিলেন, নাকি রুম্পা নিজেই গিয়েছিলেন সেসব প্রশ্নের উত্তর না মেলায় রহস্য আরো ঘনীভূত হয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখে পুলিশ মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, রুম্পা কীভাবে মারা গেছেন তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তার মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। কারো সঙ্গে দেখা করার জন্য সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় গিয়েছিলেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।

রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট গতকাল পর্যন্ত পুলিশের হাতে পৌঁছেনি। রুম্পার বন্ধু-বান্ধবী ও তার কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, যেহেতু হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা একটা অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হব। তার স্যান্ডেল, মোবাইল ফোন, কানের দুল, আংটি বাসায় ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৮ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন