ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
২৬ °সে


পরিবহন ব্যবস্থার সকল পক্ষকেই আইনের আওতায় আনতে হবে

পরিবহন ব্যবস্থার সকল পক্ষকেই আইনের আওতায় আনতে হবে

কঠোর আইন প্রয়োগ বা শাস্তি, জরিমানা ইত্যাদি বাড়ালেই দেশের সড়ক-মহাসড়ক নিরাপদ হয়ে যাবে, দুর্ঘটনা কমে যাবে, শৃঙ্খলা ফিরে আসবে—এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। যাঁরা আইন প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন করবেন এবং যাঁরা আইন মেনে চলবেন, তাদের সকলেই সচেতন, দায়িত্বশীল ও আন্তরিক না হলে এই আইনের সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার জন্য শুধু মালিক-শ্রমিকরাই দায়ী নয়; বরং এই ব্যবস্থার সঙ্গে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যের ব্যাপক দুর্নীতি, দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, অনভিজ্ঞতা ইত্যাদিও যথেষ্ট দায়ী। সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের অসচেতনতাও দায়ী অনেকাংশে।

সড়ক-মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। কিন্তু সড়ক-মহাসড়কের সংস্কার ও সম্প্রসারণ সেভাবে হয়নি। তবে সবার ওপরে রয়েছে পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব। নতুন আইনের প্রায় সবগুলো ধারায় চালক বা শ্রমিকদের বিচারের আওতায় আনার ব্যবস্থা রাখা রয়েছে। কিন্তু পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, মালিক এবং মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের অনিয়ম, অবহেলা বা দুর্নীতির বিচারের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সড়ক-মহাসড়ক ব্যবহারে যথাযথ নিয়ম না মানলে পথচারীদের জরিমানার কোনো বিধানও এই আইনে নেই। যেহেতু সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণের মধ্যে পথচারীদের বেপরোয়া চলাচলও একটি, তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের জন্য কিছু জরিমানার বিধান রাখা উচিত।

সারা দেশের জন্য প্রযোজ্য হলেও এই আইনটি প্রধানত ঢাকা মহানগরীতেই বেশি প্রয়োগ করা হবে। এই আইনের একটি ধারায় বলা হয়েছে যে, সঠিক স্থানে মোটর যান পার্কিং না করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। কিন্তু ঢাকা শহরের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পার্কিং-এর নির্দিষ্ট জায়গা নেই। কাজেই এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এই আইনের সঠিক বাস্তবায়নে দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা খুব সহজ কাজ নয়। এই আইনের সুফল পেতে হলে পরিবহন ব্যবস্থার সকল পক্ষকেই আইনের আওতায় আনতে হবে। পুরো পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির সাহায্যে যে কোনো দুর্ঘটনার কারণ বা অনিয়ম সহজেই নির্ণয় করা যেমন সম্ভব হবে, একইসঙ্গে মালিক, চালক ও শ্রমিকদের বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে অবহিত করাও সম্ভব হবে। এই আইনের যাতে কোনো রকম অপপ্রয়োগ বা চালক ও শ্রমিকদের মধ্যে যাতে কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, আইন মেনে চললে এবং ঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে মালিক, চালক, শ্রমিক, যাত্রী সকলেরই মঙ্গল হবে।

ফরিদপুর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন