ঢাকা বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
২১ °সে


মধ্যবিত্ত গৃহিণীদের মধ্যে স্থূলতা প্রকট কেন?

মধ্যবিত্ত গৃহিণীদের মধ্যে  স্থূলতা  প্রকট কেন?

সমাজের তিনটি স্তর—নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত। এই তিন স্তরের মাঝে মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণীদেরই প্রায়শই স্থূল হতে দেখা যায়। কারণ—খাবার নষ্ট হচ্ছে এই মনোভাব থেকে বাচ্চার উচ্ছিষ্ট খাদ্যগ্রহণ, ঘরে আনা বাড়তি খাবার কেউ খাচ্ছে না, ফেলে দিলে অপচয় হবে এই ভাবনা থেকে অনেক মধ্যবিত্ত গৃহিণী প্রয়োজনের অধিক খেয়ে থাকেন। বেশি সময় রান্নাঘরে কাটানোর দরুন নিজেদের ক্ষুধার্ত মনে করেন, বাস্তবে কিন্তু অধিক ঘাম হবার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, পানি পান না করে হাতের কাছে যা পান তাই খান এবং ধীরে ধীরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওজন বাড়তে থাকে।

কর্মজীবী নারীদের কিন্তু এই সুযোগ নেই। রান্না করার সময় খাবারের স্বাদ দেখার জন্য অনেকেই বারেবারে অনেকটাই হয়তো খেয়ে নেন। নিজের প্রতি যত্নের অভাবে বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত গৃহিণী নিজের ব্যাপারে একদম সচেতন নন, প্রতিদিন হয়তো আয়না দেখারই সময় পান না। যার ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বর্ধিত ওজন সম্পর্কে অবগতই থাকেন না। সময় অসময়ে বিশ্রাম নেওয়া। গৃহিণীদের যেহেতু ধরাবাঁধা কোনো রুটিন থাকে না এবং বিশ্রামের জায়গার সহজলভ্যতার দরুন যখন তখন শরীরকে আরাম দিতে পারেন। বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে এসে, দুপুরে খাবার পর অনেককেই ঘুমাতে দেখা যায়। যা থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বাড়ে।

খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি জাতীয় খাবারের (দুধ এবং দুধ জাতীয়) অপর্যাপ্ততার কারণে ওজন বাড়ে। বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারে দুধ জাতীয় খাবারগুলো প্রথমে পরিবারের বাচ্চাদের দেওয়া হয়, ক্রমে বৃদ্ধ এবং পরিবারের পুরুষদের ভাগ্যে জোটে, গৃহিণীরা হয়তো বঞ্চিতই থেকে যান। সূর্যরশ্মির অপর্যাপ্ততা থেকেও ভিটামিন ডি-এর অভাব এবং ক্যালসিয়াম শোষণে ব্যাঘাত থেকেও ওজন বাড়তে থাকে। দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী গৃহীত ক্যালসিয়াম বিপাক হার ও ফ্যাটের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে, ভিটামিন ডি শরীরে ফ্যাট জমতে দেয় না, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মূলত পেটের চর্বির সঙ্গে সমপর্কিত। মধ্যবিত্ত গৃহিণীদের খাদ্যতালিকায় মূলত দ্রুত শক্তি প্রদান করে এমন খাবারের সমারোহ বেশি দেখা যায়, যেমন ভাত, রুটি, চিনি, মুড়ি, চানাচুর, চালের পিঠা, মিষ্টি ইত্যাদি। আবার উচ্চ প্রোটিন সমন্বিত খাবার—ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, কলিজা ইত্যাদি কম গ্রহণ করে (অপ্রতুলতার কারণে) নিম্নমানের প্রোটিন ডাল বেশি গ্রহণ করে, যার ৬০% শর্করা। বেশিরভাগ গৃহস্থালির কাজ যেমন রান্না করা, বাচ্চা দেখাশোনা, আসবাবপত্র মোছা, তরিতরকারি কাটা, ঘর গোছানো ইত্যাদি যেগুলোতে শক্তি খরচ কম হয় সেগুলো গৃহিণী করে থাকেন কিন্তু সে তুলনায় ক্যালরি গ্রহণ করেন অনেক বেশি, যার কারণে শরীরে ফ্যাট জমতে থাকে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি পায়। গৃহের কঠিন কাজ সেগুলোতে ক্যালরি ক্ষয় বেশি হয় যেমন কাপড় ধোওয়া, ঘরঝাড় ও মোছা, হাঁড়িপাতিল ধোওয়া এইগুলো নিম্নবিত্তের গৃহপরিচারিকারা করে থাকে, উপরন্তু পর্যাপ্ত খাবারের অভাব তাদের শীর্ণ করে তোলে। উচ্চবিত্ত গৃহিণীদের মাঝে স্থুলতা কম দেখা যায়, কারণ তাঁদের মাঝে সচেতনতা প্রবল, ওজন কমানোর জন্য তারা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে থাকেন এবং সঠিক খাদ্যগ্রহণে অধিক আগ্রহী হন।

পুষ্টিবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন