ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ১০ মাঘ ১৪২৭
১৭ °সে

পৃথিবীতে জল এসেছে ধুমকেতু থেকে

পৃথিবীতে জল এসেছে ধুমকেতু থেকে

ড. মো. মনসুর আলী

জীবন ধারণ ও জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় জলের ভূমিকা অপরিসীম। কোন গ্রহে বা উপগ্রহে জলের অভাবে জীবন ধারণ অসম্ভব । তবুও প্রশ্ন জাগে এত জল পৃথিবীতে এলো কোথা থেকে? আমাদের পৃথিবীর ৭০% জলের উত্স মহাজাগতিক। জার্মানীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, আমাদের পৃথিবীতে বেশীর ভাগ জল এসেছে ধুমকেতুর পতনের ফলে। কথিত আছে, আমাদের সূর্যের সাথে অন্য নক্ষত্রের ধাক্কার ফলে আমাদের পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছিল। এ সময় পৃথিবীর তাপমাত্রা ছিল অত্যাধিক। ঐ তাপমাত্রায় মুক্তিবেগ ও তাপীয় বেগের কারণে জল উত্পন্ন হলেও সেগুলি টিকে থাকতে পারেনি। কারণ সকল জলজ বস্তু ১০০০ সে. তাপমাত্রায় বাষ্পীভূত হয়। কিন্তু পৃথিবীতে ঐ সময় উপর্যুপরি ধুমকেতু ও উল্কাপাতে পৃথিবীতে জলের প্রাচুর্যতা বেড়েছিল। এ তত্ত্বকে অবলম্বন করে ইউরোপীও মহাকাশ গবেষণা সংস্থার জার্মানীরা ম্যাক্স প­াংক ইনস্টিটিউটে এক গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে যে, ধুমকেতু থেকে পৃথিবীতে জল এসেছে। জার্মানীর বিজ্ঞানী ড. পল হার্ট জানান যে, তারা প্রথমে হ্যালির ধুমকেতুর নিউক্লিয়াসের ছবি পূর্ণভাবে সংগ্রহ করে দেখেছেন যে, তার ভিতর ডিউটোরিয়াম এর অনুপাত পৃথিবীর সাধারণ জলের চেয়ে দ্বিগুণ। ডিউটোরিয়াম হলো হা্ইড্রোজেনের একটি আইসোটোপ যা অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে ভারী জল তৈরি করে। জার্মানীদের এ গবেষণা আশির দশকে শুরু হয়েছিল। এ গবেষণার মাধ্যমে তারা ঐ সময় অবগত হয়েছিল যে, ভারী জল পৃথিবীর এই জলের তুলনায় অনেক ভারী। তাই তারা ভেবেছিল যে, এ ধরনের জল পৃথিবীতে ১০% আছে। তারা আরো ভেবেছিল যে, পৃথিবীর কক্ষপথে যে গ্রহাণুপুঞ্জ আছে তাদের বাইরে এমন কতগুলো গ্রহাণু আছে সেখান থেকেও জল পৃথিবীতে আসতে পারে। আবার বিজ্ঞানীরা এর কয়েক বছর পর বৃহস্পতির পাশে ঘুর্ণায়মান কিছু ধুমকেতুতে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, ঐ অঞ্চলে যে জল আছে তা পৃথিবীর জলের প্রায় সমগুণ সম্পন্ন। তাই বিজ্ঞানী হাট-টক ভাবছেন ধুমকেতু থেকে ১০% জল নয়, তার চেয়ে আরো বেশী জল পৃথিবীতে এসেছে। তাই বলা যায় যে, শুধু গ্রহাণু থেকেই জল পৃথিবীতে আসেনি, ধুমকেতু থেকেই বেশি জল পৃথিবীতে এসেছে। পৃথিবীতে প্রাণের উত্স যে কার্বন এবং পানি- তা এই ধূমকেতু ুথেকে এসেছিলো কীনা সেটা পরীক্ষা করে দেখা। পৃথিবীতে বার্তা পাঠাচ্ছে রোসেটা। আবার রোসেটাতে ও বার্তা পাঠানো হচ্ছে রোসেটায়। প্রত্যেকটি বার্তা এর জন্যে সময় লাগছে ২০মিনিট।

মহাকাশে যতো অভিযান চালানো হয়েছে, তার মধ্যে এই মিশনকে বর্ণনা করা হচ্ছে সব চেয়ে উত্তেজনাকর অভিযান হিসেবে। বিজ্ঞানীরা এখন ভাবছেন, ওই ধূমকেতুর পৃষ্ঠে একটি ল্যান্ডার পাঠানোর কথা। তবে সেটা পাঠাতে হবে বছর শেষ হওয়ার আগেই। কেনো না এই ধূমকেতুটি খুব শীঘ্রই সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন যে, ধূমকেতুর পৃষ্ঠে ল্যান্ডার অবতরণের জন্যে নভেম্বরই হতে পারে সবচেয়ে ভালো সময়। একই সাথে অবতরণের জন্যে খুঁজে বের করতে হবে নিরাপদ একটি জায়গা। ঝুঁকি একটা আছে। কিন্তু ঝুঁকি না নিলে উত্তেজনা কোথায়?

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন