ঢাকা রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২২ °সে


সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি মানুষের চলনে অস্থি ও পেশির ভূমিকা

সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি  মানুষের চলনে অস্থি ও পেশির ভূমিকা

জীববিজ্ঞান

আসাদ উজ জামান, শিক্ষক

সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা

সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি

মানুষের চলনে অস্থি ও পেশির ভূমিকা:

মানুষের চলনে অস্থি ও পেশির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্থি দেহের কাঠামো কঙ্কাল গঠন করে। আর পেশিতন্ত্র এই কাঠামোর উপর আচ্ছাদন তৈরি করে। ঐচ্ছিক পেশি টেন্ডন দ্বারা অস্থিকে আটকে রাখে। স্নায়ুবিক উত্তেজনা পেশির মধ্যে উদ্দীপনা জোগানোর ফলে সংকুচিত হয়। উদ্দীপনা অপসারণে পেশি পুনরায় প্রসারিত হয়। এই সংকোচন ও প্রসারণের সহায়তায় পেশি সংলগ্ন অস্থির নড়াচড়া সম্ভব হয়। এভাবে পেশি কোন অঙ্গকে প্রসারিত করে, ভাঁজ করে , প্রয়োজনে দেহের অঙ্গ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, উপরের দিকে উঠায়, নিচে নামানো ইত্যাদি কার্য সম্পাদন করে।

নিম্নে একটি উদাহরণ দ্বারা পেশির কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা হলো:

১। কনুই বাঁকা করতে স্নায়ু তাড়নায় বাইসেপস পেশি সংকুচিত হয় এবং ট্রাইসেপস পেশি প্রসারিত হয়। ফলে রেডিয়াস ও আলনাকে টেনে বাঁকা করে।

২। কনুই সোজা করতে হলে ঠিক তার বিপরীত কার্যক্রমটি ঘটে। অর্থাত্ স্নায়ুর তাড়নায় ট্রাইসেপস পেশি সংকুচিত হয় এবং রেডিয়াস ও আলনাকে টেনে সোজা করে। এ সময় বাইসেপস পেশি প্রসারিত হয়।

এভাবে বাইসেপস ও ট্রাইসেপস পেশির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে আমরা কনুই বাঁকানো বা সোজা করতে পারি। এ প্রক্রিয়ায় দেহের বিভিন্ন পেশির কার্যক্রমের মাধ্যমে অঙ্গ সঞ্চালন ঘটে।

টেনডন (Tendon):

মাংসপেশির প্রান্তভাগ রজ্জুর মতো শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত হয়। এই শক্ত প্রান্তকে টেনডন বলে।

১। ঘন, শ্বেত তন্তুময় যোজক টিস্যু দ্বারা টেনডন গঠিত।

২। এ ধরনের টিস্যুর ম্যাট্রিক্সে শাখাপ্রশাখাবিহীন শ্বেততন্তু ছড়ানো থাকে।

৩। অনেকগুলো তন্তু একত্রে আঁঁটি বা বান্ডেল তৈরি করে, আঁঁটিগুলো একত্রে দলবদ্ধ হয়ে আঁঁটিগুচ্ছ তৈরি করে।

৪। আঁঁটিগুচ্ছগুলো অ্যারিওলার টিস্যু দ্বারা বেষ্টিত হয়ে অধিকতর বড় আটিতে শ্রেণিবদ্ধ হয়, একে পেরিটেন্ডিয়াম বলে।

৫। অ্যারিওলার টিস্যুর দৈর্ঘ্য বরাবর টেনডনের মধ্যে রক্তনালি, নাসিকানালি এবং স্নায়ু প্রবেশ করে।

৬। এদের স্থিতিস্থাপকতা নেই, টেনডন বেশ শক্ত।

৭। পেশি বা অস্থির তুলনায় টেনডনের ভেঙ্গে বা ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক কম।

কাজ :

১। পেশি ও অস্থির সাথে আবদ্ধ হয়ে দেহকাঠামো গঠন ও দৃঢ়তা দানে সাহায্য করে।

২। অস্থিবন্ধনী গঠনে সাহায্য করে।

৩। চাপটানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

অস্থিবন্ধনী (Ligament):

পাতলা কাপড়ের মতো কোমল অথচ দৃঢ়, স্থিতিস্থাপক বন্ধনী দ্বারা অস্থিসমূহ পরস্পরের সংযুক্ত থাকে, একে অস্থিবন্ধনী বা লিগামেন্ট বলে।

১। শ্বেততন্তু ও পীততন্তুর সমন্বয়ে লিগামেন্ট গঠিত।

২। এতে পীতবর্ণের স্থিতিস্থাপক তন্তু ছড়ানো থেকে।

৩। এর মধ্যে সরু, শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট কতকগুলো তন্তু গুচ্ছাকারে না থেকে আলাদাভাবে অবস্থান করে।

৪। তন্তুগুলো ইলাস্টিক নামক আমিষ দ্বারা তৈরি ।

৫। তন্তুগুলোর মাঝে ফাইব্রোব্লাস্ট কোষ থাকে।

৬। এদের স্থিতিস্থাপকতা আছে ।

কাজ:

১। লিগামেন্ট হাড়কে আটকে রাখে, এতে অঙ্গটি সবদিকে সোজা বা বাঁকা হয়ে নড়াচড়া করতে পারে।

২। এর কারণে হাড়গুলি স্থানচ্যুত ও বিচ্যুত হয় না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন