ঢাকা রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৫ °সে


দখল দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে সাভারের কর্ণপাড়া খাল

দখল দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে  সাভারের কর্ণপাড়া খাল
সাভার : কর্ণপাড়া খালের বর্তমান অবস্থা —ইত্তেফাক

সাভারের ঐতিহ্যবাহী কর্ণপাড়া খাল। শত বছরের পুরানো এ খালে একসময় পালতোলা নৌকা চলত, নৌপথে ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট (নৌবন্দর) হিসেবে ব্যবহার হতো এটি। দখল আর দূষণে খালটি আজ মৃতপ্রায়। খালটির উত্পত্তি সাভারের ধলেশ্বরী নদীর সংযোগস্থল থেকে। এটি পৌর এলাকার কর্ণপাড়া দিয়ে গেন্ডা ও সাধাপুর এলাকা হয়ে মিশেছে তুরাগ নদীতে। এক সময় সেচ গৃহস্থালির কাজে এই খালের পানি ব্যবহার করা হতো। নৌপথে যোগাযোগেরও একটা ভালো মাধ্যম ছিল খালটি। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় প্রভাবশালী ও স্থানীয় ভূমিদখলদাররা খালটি গ্রাস করে ফেলেছে। এছাড়া ক্রমাগত কারখানা ও ঘরবাড়ির বর্জ্য ফেলার কারণে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে কর্ণপাড়া খালটি।

এক সময় এই খালে জেলেরা মাছ ধরত, এলাকার লোকজনের গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে এ খালের পানি ব্যবহার হতো। কিন্তু বর্তমানে এ খালে কোনো পানি নেই। ক্রমাগত দখলের ফলে খালটি একটি সরু নালায় পরিণত হয়েছে। আর কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে নালার পানি কালো কুচকুচে রঙ ধারণ করেছে। পচা পানির দুর্গন্ধে এলাকায় টেকা দায়। এ পানি গায়ে লাগলেই চর্মরোগ হতে বাধ্য। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ব্যাংক টাউন ও উলাইল বাসস্ট্যান্ডের মধ্যবর্তী কর্ণপাড়া ব্রিজের ওপর দাঁড়ালেই দেখা যায় খালের দুর্দশার চিত্র। বিভিন্ন স্থান থেকে ময়লা আবর্জনা ফেলে ময়লার স্তূপে ক্রমেই ভরাট করে ফেলা হয়েছে খালের দুপাড়। এলাকার বাসিন্দা লাবু মিয়া বলেন, পূর্বে কর্ণপাড়া খালটি নৌবন্দর ছিল। দূর-দূরান্তে যোগাযোগ রক্ষায় এ খালটি ব্যবহার করা হতো। খালটিতে বজরা নৌকা যাতায়াত করত। খালের পানি এত পরিষ্কার ছিল যে, এলাকার লোকজন খালের পানিতে গোসল করতেন। জেলেরা জাল ফেলে মাছ ধরত। কিন্তু আজ এসব শুধুই সুখস্মৃতি।

সাভার উপজেলা পরিবেশ ও নদীরক্ষা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ড. রফিকুল ইসলাম মোল্লা ঠান্ডু বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ খালটি রক্ষায় সংগঠনের পক্ষ থেকে সাভারের সচেতন নাগরিক সমাজ ইতিপূর্বে মানববন্ধন ও প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। কিন্তু সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। নির্বিচারে কারখানার বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে খালটি। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন খান নঈম বলেন, এ খালটি দখল-দূষণের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী। ফলে আজও উচ্ছেদ হয়নি তারা।

পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা শামসুল হক বলেন, খালটি দখল ও দূষণের কবল থেকে রক্ষা করা প্রশাসনের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। প্রশাসনের নাকের ডগায় শতবর্ষী এ খালটি নিঃশেষ হলেও তাদের যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। দখলদারদের উচ্ছেদে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ময়লা আবর্জনা অপসারণ করে অচিরেই অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খালটি উদ্ধার করা হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন