ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৭
১৮ °সে

উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশিত অধিকারই দেশকে সমৃদ্ধ করবে

উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশিত অধিকারই দেশকে সমৃদ্ধ করবে

মো. শফিকুল ইসলাম নিয়ামত

পৃথিবীতে নানা বর্ণের, ভাষার এবং বৈশিষ্ট্যের মানুষ বাস করে। বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবীতে কত ধর্ম, জাতি এবং সংস্কৃতির সমাহার। ধনী, গরিব, কালো, ধলো এসবই মানুষের মধ্যকার পার্থক্য মাত্র। দিন শেষে আমরা সবাই মানুষ। জাত, ধর্ম, ভাষা এবং সংস্কৃতি আলাদা আলাদা হলেও সবার মৌলিক অধিকার কিন্তু একই। মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার বা উপকরণ (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিত্সা) সবাই প্রয়োজন অনুসারে পাবে। এ ক্ষেত্রে কে কোন ধর্মের কে কোন জনগোষ্ঠীর এসবের পরোয়া করা হয় না। কিন্তু বাস্তবে এই অধিকারগুলো আমরা বা আমাদের আশপাশে যে মানুষগুলো আছে তারা কতটুকু পাচ্ছি? স্বল্প পরিসরে বেদে জনগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রথমে আলোকপাত করা যাক। ভাসমান তাদের জীবন। নেই কোনো স্থায়ী ঠিকানা। বর্ষায় ছোটো ছোটো নৌকা আর শীতকালে যে কোনো জায়গায় তারা অস্থায়ী আবাস গড়ে তোলে। একমুঠো খাবারের জন্য তাড়িয়ে বেড়ায় অঞ্চলের পর অঞ্চল। বিচিত্র তাদের কাজের ধরন ঝারফুঁক, শিংগা লাগানো, দাঁতের চিকিত্সা এবং সাপের খেলাসহ কত ভিন্নধর্মী কাজ তারা করে থাকেন। শুধু একমুঠো খাবারের আশায়। তবে এই আধুনিক যুগে কি আর ঐসব প্রাচীন কর্ম মানুষকে আকৃষ্ট করে! মৌলিক অধিকারের প্রথমটার নিশ্চিত হওয়া যাদের কাছে নেই তারা তো শিক্ষা শব্দটাকে খুব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে এটা বুঝতে কারো অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। লজ্জা নিবারণের জন্য খুব স্বল্পমূল্যের বসন পরিধান করলেও বাসস্থানের কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই আগেই বর্ণনা করেছি। কিছুদিন আগে একটা খবর নজর কেড়েছে তাহলো সাভারে বেদেদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উত্তরণ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে ৫০টি টিনশেড ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। এই খবরটুকু অন্তত অন্ধকারের মধ্যে আশার আলো হলেও যথেষ্ট নয়। মাঝে মাঝেই খবর শোনা যায় যে চুরি, মাদক এবং ছিনতাই এর আখড়া হয়ে উঠেছে রেল স্টেশন। আর এসব কুকর্মের জন্য অভিযোগের তীর রীতিমত তাক করা হয় স্টেশনের আশপাশে অবস্থিত বস্তিবাসীর ওপর। প্রতিনিয়ত এসব কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা যাদের ওপর অভিযোগের তীর ছুড়ি আমরা কখনোই চিন্তা করে দেখিনি কোন অভাবের দরুন বা কোন বিষয় তাদের এসব মানহানিকর ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে বাধ্য করে। অসংখ্য বস্তির শিশু-কিশোর-যুবক যারা ডাস্টবিন থেকে খাবার তুলে খায়, যারা সকালে খেতে পারলেও দুপুরে কি খাবে এ খবর অজানা থাকে তারা পেটের অন্ন যোগাড় করতে অপরাধ জগতে সহসাই পা বাড়ায়। তখন চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক সকল প্রকার অপরাধের দিকে ধাবিত হয়।

প্রশ্ন থেকে যায়, এসব বস্তিবাসির ভাগ্য উন্নয়নে কোনো সরকার কখনো কি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে? মৌলিক অধিকার বা উপকরণ নিশ্চিত করার কখনো কি উদ্বিগ্ন হয়েছে? একটি দালান অবশ্যই সম্পদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যদি সেই দালান ব্যবহার্য হয়। যদি ব্যবহার না হয় তাহলে নিঃসন্দেহে সেটা বোঝা। অনুরূপ দেশের সকল মানুষ মানবসম্পদে পরিণত হবে যদি তার মৌলিক অধিকার বা উপকরণ নিশ্চিত করে দেশের কাজে লাগানো যায়। এর বিপরীত হলে জনসংখ্যা জন বোঝায় পরিণত হবে। সুখী সমৃদ্ধ একটি উন্নত দেশ গঠনের জন্য শুধু একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে নজর দিলে হয় না সেটা আমরা ভালো বুঝতে পারব মহান মুক্তিযুদ্ধের দিকে তাকালে। দলমত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলই এই স্বাধীন বাংলাদেশ। দেশকে অস্তিত্বদানের ক্ষেত্রে যদি সকল জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন হয় তাহলে দেশকে এগিয়ে নিতেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা কাম্য।

সংবিধানেও এ বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে ‘রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হইবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উত্পাদন শক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সাংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতিসাধন, যাহাতে নাগরিকদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়। অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিত্সাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা।’ পরিশেষে আমাদের আশা থাকবে যে দল, মত জনগোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার।

n লেখক : শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৮ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন