ঢাকা সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৭
১৯ °সে

আত্মহনন কোনো সমাধান নয়

আত্মহনন কোনো সমাধান নয়

সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম একটি আাাতঙ্কের নাম ‘আত্মহত্যা’। বর্তমানে দুই ধরনের বয়সের মানুষকে বেশি আত্মহত্যা করতে দেখা যায়। প্রথমত কিশোর-কিশোরী, দ্বিতীয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীকে। কিশোর-কিশোরীদের বেশির ভাগ আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায়. সাধারণত ঝোঁকগ্রস্ত হয়ে বা সামান্য কোনো অপ্রাপ্তির কারণে তারা এই ভয়ঙ্কর পন্থাটি অবলম্বন করে।

২০১৯ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিন জন আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

২০১৮ সালে পাঁচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৯ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় জন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত জন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর আগে ২০১৭ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৮ লাখ লোক আত্মহত্যা করে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে এক জন। ১৫-২৯ বছরের তরুণ-তরুণীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ আত্মহত্যা, ৭৯ শতাংশ আত্মহত্যা ঘটে আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া প্রাপ্তবয়স্ক বেশির ভাগ ছেলেমেয়েগুলো আত্মহত্যা করে নিঃসঙ্গতা ও হতাশার কারণে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃতপক্ষে এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে আপনার নিজের জায়গা নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়। আর একজন সন্তান যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তখন বাবা-মা ভেবেই নেন যে, তার ছেলে অথবা মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক। নিজেদের জীবন নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো যথেষ্ট সুবিবেচক তারা নিজেই। এ ভরসার জায়গা থেকে এজন্য এ সময় বাবা-মা হয়তো ছোট্টবেলার মতো সব খোঁজখবর রাখেন না। মাঝ বয়সে যখন মা-বাবা আপনার ওপর একটু ভরসা করতে শুরু করেছে, তখন নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে আত্মহনন করা কতটুকু বুদ্ধিমানের কাজ? নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মতো এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মা-বাবার স্বপ্নগুলোর কথা একটু ভাবা উচিত নয় কি?

একজন মা ১০ মাস ১০ দিন গর্ভধারণের পর একটি সন্তান প্রসব করেন। মায়ের এই দীর্ঘ সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত প্রতিটি সেকেন্ড কাটে অতিশয় কষ্টে। আর প্রসব যন্ত্রণার কষ্টের কথা না হয় না-ই বললাম। একজন সন্তানের জন্য মা-বাবার ত্যাগ এখানেই সীমাবদ্ধ নয়।

সন্তান প্রসব করার পর থেকে আত্মহত্যা নামক ভয়ঙ্কর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বাবা-মার এ লড়াই চলতেই থাকে। যাদের বাবা-মা আছে তারা হয়তো একটু গভীরভাবে ভাবলেই বুঝতে পারবেন, বাবা-মায়ের প্রতিটি সকাল শুরু হয় কাকে কেন্দ্র করে? আমার বাবা-মার কথা ভাবলে তো আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমার বাবা-মার প্রতিটা সকাল শুরু হয়, হয়তো আমাকে কেন্দ্র করে না হয় আমার অন্য ভাইবোনকে কেন্দ্র করে।

বাবা-মার সকাল থেকে শুরু করে সারাদিনের পরিশ্রম শুধু তাদের সন্তানের ভবিষ্যেক কেন্দ্র করে। কারণ, তারা চায় আমাদের একটু কষ্ট হলেও আমার সন্তানের যেন কোনো কষ্ট না হয়। আমি এক বেলা খারাপ খেলেও আমার সন্তান যেন ভালো খেতে পারে। তাই এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার নিজের পরিবার ও নিজের এমন সুন্দর জীবন নিয়ে ভাবুন। আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না, আত্মহত্যা মানে একটি বীজ বপনের আগেই তা উপড়ে ফেলা। এমনো তো হতে পারে, আজ আপনার দিন খারাপ যাচ্ছে কিন্তু পরবর্তী সকাল আপনার জন্য নিয়ে আসছে ভালো থাকার অবিরাম সম্ভাবনা। নিজেকে, নিজের পরিবার ও কাছের মানুষগুলোকে না ঠকিয়ে তাদের নিয়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ার প্রয়াস নিয়ে জীবনযুদ্ধে যুগ যুগ টিকে থাকার স্বপ্নে নিজেকে উজ্জীবিত করুন।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন