ঢাকা সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৭
২০ °সে

নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা

নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা

প্রশ্ন :সারা জীবন ধরে আমাদের অন্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কেন এ রকম তুলনা করা হয়?

উত্তর :জীবনের কিছু ক্ষেত্র আছে যেখানে আমাদের পুরো শিক্ষা পদ্ধতির অস্তিত্বই নির্ভর করছে অতীতে ঘটে যাওয়া অনেক বিষয়ের ওপর। আপনি অ-আ-ক-খ লিখতে পারছেন কারণ, আপনার আগে অন্য কেউ অ-আ-ক-খ লিখেছিল। নিজে নিজেই আপনি অ-আ-ক-খ লিখে ফেলতে পারতেন না। কাজেই আপনি যেটা করতে পারছেন, সেটা কেবলমাত্র আপনার ভেতর থেকেই আসছে না। আপনি যা করতে পারছেন তা মানবতার অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে আসছে। অ-আ-ক-খ লেখাটা অনেক হাজার প্রজন্মের ভাষার অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসছে।

অন্য যা কিছু আপনি করতে পারেন, তা কেবলমাত্র আপনার ভেতর থেকেই বেরিয়ে আসছে না; আপনার ওপর প্রত্যেকের যে অবদান, তার থেকেই এটা বেরিয়ে আসছে। অবশ্যম্ভাবীভাবেই তুলনার প্রয়োজন এসে পড়ছে। কারণ যদি কোনো তুলনা না থাকে, আপনি হয়তো জীবনে খুবই বোকা কিছু করতে থাকবেন অথচ ভাবতে থাকবেন খুব ভালো কাজ করছেন।

তুলনা করা একেবারেই ঠিক আছে; কিন্তু এটা আপনার ব্যাপারে নয়, এটা শুধুমাত্র আপনি কি করতে পারেন—সে ব্যাপারে। এটা কেবলমাত্র আপনার কাজকর্মের ব্যাপারে। কাজের ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্নভাবে দক্ষ। আমাদের যদি কোনো মাপকাঠি না থাকে, আমাদের কাজের কোনো উন্নতি হবে না। প্রত্যেক দিন আমরা আবার গোড়ার থেকে শুরু করব এবং চাকার পুনরাবিষ্কার করতে থাকব।

এটা জেনে আপনার যদি কোনো সমস্যা থাকে যে কেউ একজন আপনার থেকে আরো ভালো করছে, একমাত্র তখনই এই তুলনা করা সমস্যা হবে। আপনার কোনো সমস্যাই থাকা উচিত নয় যে কেউ একজন আপনার চেয়ে আরো ভালো করছে। আমি তো সবসময় এমন একজনকে খুঁজছি যে আমার চেয়ে আরো ভালোভাবে সবকিছু করতে পারবে। তারা যদি আমার চেয়েও ভালোভাবে করতে পারে, আমার জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে, আরো ভালো এবং সুন্দর হবে। কিন্তু যদি আপনি একজন ভয়ংকর অত্যাচারী হন, আপনি চাইবেন না যে কেউ আপনার চেয়ে ভালো করুক। এটা বেঁচে থাকার একটা জঘন্য উপায়। আপনার মধ্যে এই নির্বুদ্ধিতা এসেছে কারণ আপনি সর্বদা ব্যক্তিটিকে মাপার চেষ্টা করছেন, ‘আমি কি এর থেকে বড়ো? আমি কি এর থেকে ছোটো?’—কারণ আপনার পুরো প্রচেষ্টাই হলো কোনোভাবে ঢিবির ওপরে বসে থাকা।

সমস্যার সৃষ্টি এজন্যই হয় যে আপনার নিজেকে নিয়ে মারাত্মক রকমের নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। আপনার পুরো জীবনটাই ব্যয় হয়েছে অন্যের চেয়ে নিজেকে একটু ভালো দেখানোর জন্য। এটা জীবনের অপচয়, কারণ খুব সম্ভবত আপনি সফল হবেন না এবং অবশ্যই আপনার পূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশ হবে না। আপনি সফল হন বা না হন, আপনার শোচনীয় অবস্থা হবে, কারণ নিরন্তর কারোর চেয়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করাটা প্রকৃতপক্ষে বেঁচে থাকার খুব নিকৃষ্ট একটা উপায়।

সবচেয়ে প্রাথমিক জিনিস হলো—আপনার জীবনকে অনুভব করার পদ্ধতিটা ঠিক করে নেওয়া। যদি নিজের স্বভাবেই আনন্দিত থাকতে পারেন তাহলে যা কিছুই আপনি করুন না কেন, আপনি নিজের ভেতর এ রকম একটা অস্বাস্থ্যকর অবস্থার মধ্যে পড়বেন না। আপনি যে কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন; আপনার সাধ্যমতো আপনি আপনার শ্রেষ্ঠটাই করবেন, কারণ আপনি ইতোমধ্যেই আনন্দে রয়েছেন। আপনি যদি সবার শেষেও থাকেন, তবুও এটা সুন্দর, কারণ আপনি তো আপনার শ্রেষ্ঠটাই করেছেন।

n সৌজন্যে :ঈশা ফাউন্ডেশন

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন