ঢাকা বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
২১ °সে


পুণ্যার্থীদের সাধু সাধু ধ্বনিতে কঠিন চীবর দানোত্সব সম্পন্ন

পুণ্যার্থীদের সাধু সাধু ধ্বনিতে কঠিন চীবর  দানোত্সব সম্পন্ন
রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে ৪৬তম কঠিন চীবরদান উত্সবে উত্সর্গের উদ্দেশ্যে চাকমা রাজা দেবাশীষ রায় ২৪ ঘণ্টায় তৈরি করা কঠিন চীবর মাথায় নিয়ে মন্ত্র পাঠ করেন —ইত্তেফাক

মৈত্রীর বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লাখো পুণ্যার্থীর শ্রদ্ধা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সাধু সাধু ধ্বনিতে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোত্সব সম্পন্ন হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দুই দিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোত্সব সব সম্প্রদায়ের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে রাজবন বিহার। দুপুরে রাজবন বিহার প্রাঙ্গণে বৌদ্ধ সমাবেশে রাঙ্গামাটি সার্কেল চিফ রাজা দেবাশীষ রায় ২৪ ঘণ্টায় তৈরিকৃত চীবর পার্বত্য বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু বনভন্তের শীর্ষ মণ্ডলীর কাছে উত্সর্গ করেন। চীবর উত্সর্গের সময় ভক্তদের সাধু, সাধু, সাধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো রাজবন বিহার এলাকা।

গতকাল চীবর দানানুষ্ঠানে মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইনুর রহমান, জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ, চাকমা রাজা দেবাশীষ রায়, রানী ইয়েন ইয়েন, জেলা পরিষদ সদস্য অংশ্রুপ্রু চৌধুরী, রাজবন বিহারের উপাসক উপাসিকা পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন। রাতে রাজবন বিহারে ফানুস উড়িয়ে শেষ হয় এ কঠিন চীবর দান উত্সব। পার্বত্য অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে চাকমা রাজা বলেন, সব প্রশাসন নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা বজায় রেখে চেষ্টা করলে সংকট নিরসন করা অসম্ভব না।

গত বৃহস্পতিবার চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বেইন ঘর উদ্বোধন করে এবং চরকায় সুতা কেটে দুই দিনের কঠিন চীবর দান উত্সবের সূচনা করেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় গেরুয়া কাপড়কে বলা হয় চীবর। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে চরকায় সুতা কেটে, সুতা রং করে আগুনে শুকিয়ে সেই সুতায় তাঁতে কাপড় বুনে চীবর তৈরি করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দান করা হয় বলে এর নাম কঠিন চীবর দান। বিশ্বের আর কোথাও এ নিয়মের প্রচলন নেই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন