ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৭
১৫ °সে

বারান্দায় মা, ঘরে ভগ্নিপতিপুকুরে মিলল ভাইয়ের লাশ

বরিশালে প্রবাসীর বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু
বারান্দায় মা, ঘরে ভগ্নিপতিপুকুরে মিলল ভাইয়ের লাশ

বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী এক ব্যক্তির মা, ভগিনীপতি ও খালাতো ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের মা মরিয়ম বেগম (৬৫), তার ভগিনীপতি শফিকুল আলম সফিক (৬০) ও খালাতো ভাই মো. ইউসুফের (২২) লাশ পৃথক পৃথক স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় শনিবার ভোরে। মরিয়ম বেগমের সঙ্গে রাতে ঘুমাতে আসা তার উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া নাতনি আছিয়া ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে উঠে বারান্দায় মরিয়ম বেগমের লাশ পড়ে থাকতে দেখে চিত্কার শুরু করে। এরপর থানা পুলিশে খবর দিলে ঐ বাড়িতে বেড়াতে আসা শফিকুল আলমের লাশ পার্শ্ববর্তী কক্ষে পাওয়া যায় এবং বাড়িতে থাকা প্রবাসীর খালাতো ভাই ভ্যানচালক ইউসুফের লাশ পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ঐ বাসার ভেতর থেকে সব দরজা-জানালা আটকানো ছিল। আব্দুর রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুর বক্তব্য ধরে জাকির নামের এক কবিরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ বছর ধরে কুয়েতে বসবাসকারী হাফেজ আব্দুর রব সেখানকার একটি মসজিদে ইমামতি করছেন। রবের স্ত্রী মিশরাত তার দুই সন্তান ইফাদ, নূরজাহান ও শাশুড়িকে নিয়ে ঐ বাড়িতে বসবাস করছেন। তার বড়ো ছেলে ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় হাফেজি পড়াশোনা করে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ঐ বাসায় ছিলেন মিশরাত ও তার দুই সন্তান, শাশুড়ি, ভাতিজি, রবের ভগিনীপতি এবং খালাতো ভাই ইউসুফ। রাতে আছিয়ার সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন বৃদ্ধা মরিয়ম। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩টি মরদেহের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে কিছুই জানেন না দাবি করে গৃহকর্ত্রী মিশরাত বলেন, গ্রামের কারোর সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। এ ঘটনার পর সন্তানসহ পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত।

লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জাকির হোসেন নামে (জীনের বাদশা পরিচয়দানকারী) এক কবিরাজকে শনিবার দুপুরে আটকের পর রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসছে বলে জানান পুলিশের কর্মকর্তারা। তবে তদন্তের স্বার্থে সবকিছু জানানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি এ কে এম এহসান উল্লাহ। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হোসেন জানান, এক সহযোগী নিয়ে প্রবাসী হাফেজ আবদুর রবের মা মরিয়ম বেগমকে (৬৫) বালিশচাপা দিয়ে, তার ভগিনীপতি শফিকুল আলম সফিক (৬০) ও খালাতো ভাই মো. ইউসুফকে (২২) মাফলার দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যা করে। শনিবার সকাল থেকেই অতিরিক্ত ডিআইজিসহ জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশ সদস্যরা, সিআইডি, পিবিআই, র্যাব কর্মকর্তারা একযোগে তদন্তে নামেন। এক পর্যায়ে কবিরাজ জাকির হোসেনের নাম বেড়িয়ে এলে তাকে সলিয়াবাকপুর থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে সে এক সহযোগী নিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে। অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম এহসান উল্লাহ ইত্তেফাককে জানান, অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৮ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন