ঢাকা শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭
১৯ °সে

তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রতিবন্ধীদেরও কর্মসংস্থান হবে :প্রধানমন্ত্রী

সরকারি জমি দখলমুক্ত করে প্রতিবন্ধী উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ
তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রতিবন্ধীদেরও কর্মসংস্থান হবে :প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উদযাপন ও প্রতিবন্ধী কমপ্লেক্স ‘সুবর্ন ভবন’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এক প্রতিবন্ধীর হাতে পুরস্কার হিসেবে নৌকা ক্রেস্ট তুলে দেন —ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যাপারে নেতিবাচক মানসিকতা পরিহার করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে প্রতিবন্ধীদেরও কর্মসংস্থান হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কমপ্লেক্স ‘সুবর্ণ ভবন’ উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কানাকে কানা আর খোঁড়াকে খোঁড়া বলো না, শৈশব থেকে আমরা এই শিক্ষা পেয়েছি। শিশুদেরও এই শিক্ষা দিতে হবে, যাতে তারা মানবিক হয়।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যাপারে আমাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য স্বাধীনতা এনেছেন। আমাদের লক্ষ্য এই স্বাধীন দেশের সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবে এবং আমরা এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছি।’ অটিজম বা প্রতিবন্ধিতা কোনো রোগ অথবা অসুস্থতা নয়—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে অটিজম অথবা প্রতিবন্ধিতায় যারা ভুগছে তারা সমাজের মূলধারার সঙ্গে বসবাস করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দেশের উন্নয়ন। তাই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যেন উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে না থাকে।’ এ সময় প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাসহ তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু সারাদেশে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিপুল ভূমি বরাদ্দ দেন। তিনি বলেন, ‘ঐ সব স্থানে আমরা প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে আরো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারি এবং আমরা ইতিমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে অব্যবহূত ও পতিত জমি খুঁজে বের করে প্রকল্প গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৮০ কোটি টাকা খরচ করে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থসেবা, প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা, পুনর্বাসন, গৃহায়ন, বিনোদনসহ বিভিন্ন সুবিধাসংবলিত ‘সুবর্ণ ভবন’ নির্মাণ করেছি।’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় প্রতিবন্ধী বালক-বালিকাদের সাফল্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার তাদের জন্য বিভিন্ন ক্রীড়া ও খেলাধুলার ওপর বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। এছাড়া প্রতবন্ধী শিশুদের খেলধুলা অনুশীলনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সে একটি স্থানের উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে পরিদপ্তরে উন্নীত করার দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা লাভবান হবে না, বরং কিছুসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা লাভবান হবেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জুয়েনা আজিয়া এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি সায়েদুল হক, ন্যাশনাল স্পেসালাইজড এডুকেশন সেন্টারের পঞ্চম গ্রেডের শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আখতার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং তাদের পরিবেশিত বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এর আগে তিনি এ ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তি, সমাজকর্মী ও সংগঠন, পিতামাতা এবং সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার বিতরণ করেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন