ঢাকা রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৩ °সে


খুলনা ও রাজশাহীর ১৪ জেলাসহ ১৬ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবি
খুলনা ও রাজশাহীর ১৪  জেলাসহ ১৬ জেলায়  পরিবহন ধর্মঘট

নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ ১০ দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় গতকাল সোমবার অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালিত হয়েছে। খুলনা বিভাগের দশ জেলা ও রাজশাহী বিভাগের চার জেলাসহ দেশের ১৬ জেলায় কোনো ধরনের পরিবহন চলাচল করেনি। পরিবহন শ্রমিকরা কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গতকাল সকালে হঠাত্ করে ধর্মঘট পালন করা শুরু করেন। তবে কয়েকজন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতা দাবি করেন, চালক ও শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে নিজেরা নিজেরা বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। ধর্মঘটের কারণে চলমান পিইসি ও ইবতেদায়ি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিশুরাসহ চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষজন। তবে যশোরে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। গত পহেলা নভেম্বর থেকে নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হয়। আইনে অপরাধ করলে চালকদের শাস্তি ও জরিমানা বৃদ্ধি করা হয়। তখনই নতুন আইন সংশোধনের দাবি তোলেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। আমাদের অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

খুলনা অফিস :গতকাল সকাল থেকে খুলনা বিভাগের দশ জেলায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলছেন, আইনের কয়েকটি ধারার সংশোধন চান চালকরা। সংশোধনের পরই আইনটি কার্যকর করা হোক। এটা না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। বিষয়টি নিয়ে আগামী ২১ ও ২২ নভেম্বর শ্রমিক ফেডারেশন বর্ধিত সভা ডেকেছে। এদিকে, হঠাত্ করে খুলনা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছে। খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বিপ্লব বলেন, বাস মালিকদের অধিকাংশ গাড়ির ফিটনেস সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র ঠিক নেই। সেগুলো সড়কে নামালে প্রশাসন মামলা দিচ্ছে। জরিমানা করছে, তাই তারা বাস সড়কে নামাতে চান না। খুলনা বিভাগের দশ জেলার পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছে বলে জানান তিনি। সংগঠনের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের প্রতিবাদে শ্রমিকরা বাস চালাচ্ছেন না। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোনা বলেন, শ্রমিকরা ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডের ভয়ে গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন। আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তারা এসব করছে। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, আন্দোলন ও ধর্মঘট ডেকে চাপের মধ্যে ফেলে স্থানীয়ভাবে কোনো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে দেওয়া হবে না।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী :মোটর শ্রমিকরা নগরীর শিরোইল ও নওদাপাড়া বাসটার্মিনাল ও ভদ্রা ছাড়াও নগরীর প্রবেশপথ তালাইমারী ও কাশিয়াঙ্গা মোড়ে অবস্থান নিয়ে বাস চলাচলে বাধা দেন। একইসঙ্গে নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটা ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ডাকা কোনো ধর্মঘট নয়। সকাল থেকে শ্রমিকরা নিজেরাই বাস বন্ধ রেখেছে।

যশোর অফিস :নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবিতে রবিবার দিনব্যাপী অচল অবস্থার পর রাতে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক নেতারা বৈঠকে বসেন। তারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলেও সোমবার তা বাস্তবায়ন হয়নি। গতকাল বেলা ১১টার দিকে বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা কয়েকটি পরিবহন আটকে দেয় শ্রমিক ও শ্রমিক নেতারা। তবে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। বৈধ কাগজপত্রের চালকরা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামতে চাইলেও বাধার সম্মুখীন হন। ঐসব গাড়ির চালকদের দাবি, শ্রমিক নেতারা শ্রমিকদের মাঠে নামিয়ে জিম্মি করছে। এজন্য বৈধ কাগজপত্র থাকলেও অনেক চালক নামতে পারছে না। যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সভাপতি মামুনূর রশীদ বাচ্চু বলেন, ৯০ শতাংশ চালক রাস্তায় নামছে না। ফলে বাকি ১০ শতাংশ চালক বিবেকের তাড়নায় মাঠে নামেনি। ফাঁসির দড়ি সামনে নিয়ে শ্রমিকরা পরিবহনে কাজ করতে রাজি নয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ :চাঁপাইনবাবগঞ্জের সব রুটে মিনিবাস চলাচল বন্ধ ছিল গতকাল। দুপুর দেড়টার দিকে জেলা শহরের বিশ্ব রোড মোড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী গেটলক ও মহানন্দা বাসসার্ভিসের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায় কাউন্টার খোলা থাকলেও চালকরা গাড়ি চালানো বন্ধ রাখায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে না।

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি :সকাল থেকে স্থানীয় সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঝিনাইদহ বাস, মিনিবাস ও মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান খোকন জানান, তারা সড়কে কোনো অবরোধ করেনি। শুধু নতুন সড়ক আইন সংশোধনের দাবি করেছেন।

নড়াইল :রবিবার সকালে ১১ দফা দাবিতে নড়াইলে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ মানববন্ধন করে। কিন্তু কোনো ঘোষণা না দিয়ে মানববন্ধনের ৭ ঘণ্টা পর নড়াইল থেকে সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বলেন, বাস চলাচল বন্ধ রাখার ব্যাপারে সংগঠনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

শেরপুর :সকাল থেকে শহরের বাগরাকসা ও নবীনগর এলাকার দুটি বাস টার্মিনাল থেকেই ঢাকা-শেরপুরসহ সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) :গতকাল সকালে ভূঞাপুর থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলরত সবপ্রকার যানবাহন চালানো বন্ধ রাখে শ্রমিকরা।

ধামইরহাট (নওগাঁ) :পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গতকাল সকাল থেকে নওগাঁ-নজিপুর-ধামইরহাট-জয়পুরহাট রুটে সবপ্রকার বাস চলাচল বন্ধ রাখে শ্রমিকরা। হঠাত্ বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন