ঢাকা শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


‘শব্দ শুনে মনে হলো কেউ শক্তিশালী বোমা মেরেছে’

‘শব্দ শুনে মনে হলো কেউ শক্তিশালী বোমা মেরেছে’

‘যাত্রীদের চোখে ভোররাতের ঘুম। হঠাত্ করে কানফাটা শব্দ। একই সঙ্গে বহু মানুষের ‘বাঁচাও বাঁচাও’ আর্তনাদ। শব্দ শুনে প্রথমে মনে হয়েছিল ট্রেনে কেউ যেন শক্তিশালী বোমা মেরেছে। বগির ভেতর রক্তের বন্যা বয়ে যেতে লাগল। কারো হাত নেই, কারো পা নেই আবার কারো ক্ষেত্রে আরো বীভত্স চিত্র। আমিও ভেবেছিলাম এখানেই হয়তো জীবনের শেষ। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগ এলাকায় ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা ও চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে আহত কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে চিকিত্সাধীন কয়েকজন এভাবেই দুর্ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

উদয়ন এক্সপ্রেসের আহত যাত্রী কাউছার (২৮) বলেন, ‘রাত তখন আনুমানিক পৌনে ৩টা। যাত্রীদের অনেকেই তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাত্ প্রবল ঝাঁকুনি ও বোমার বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনে সবার ঘুম ভেঙে যায়। নিভে যায় বগির সব আলো। ঘুটঘুটে অন্ধকারে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বুঝতে পারলাম অনেকেই হতাহত হয়ে গায়ের ওপর পড়ে আছে। এরপর স্থানীয়রা উদ্ধার করে কসবা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও গুরুতর জখমের কারণে আমাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।’ কাউছার হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার উত্তর শ্যামলী গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। পেশায় তিনি সিএনজি চালক। তিনি আরো বলেন, ‘শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন থেকে মামাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে চট্টগ্রাম যাচ্ছিলাম। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে মারা গেছে বলে শুনেছি।’

সিলেটে মাজার জিয়ারত শেষে মা, স্ত্রী, মেয়ে, ভাগনে বউসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে একই ট্রেনে চাঁদপুরের হাইমচরের ঈশানবালা গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর আলম (৪৮)। তিনি বলেন, ‘স্থানীয়রা টেনে বের করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। পরিবারের অপর চার সদস্য কোথায় আছে কিংবা তারা বেঁচে আছে কি না তাও জানি না।’

দুর্ঘটনার পর কুমেক হাসপাতালে ১৩ জনকে আনা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জনকে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ‘বর্তমানে এই হাসপাতালে যে তিন জন ভর্তি রয়েছে তাদের চিকিত্সার খরচ জেলা পুলিশ থেকে বহন করা হবে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন