ঢাকা রবিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২৬ °সে


ট্রেন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ট্রেন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বেপজা গভর্নর বোর্ডের সভায় বক্তব্য দেন —বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) গভর্নিং বোর্ডের ৩৪তম সভায় তিনি এ নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘রেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ধরনের দুর্ঘটনা বন্ধে সতর্ক থাকতে হবে।’

ভবিষ্যতে ট্রেন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রেলে যারা কাজ করেন তাদের আরো দক্ষ করা উচিত এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রেল চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জানি না কেন শীত মৌসুম আসলেই কেবল আমাদের দেশেই নয়, সমগ্র বিশ্বেই রেলের দুর্ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়।’ ট্রেন দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বুলবুলের মতো সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও নিজেদের রক্ষা করতে পারলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এ ধরনের একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। যে ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৬ জনের প্রাণহানি এবং বহু আহত হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আহতদের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন।

বেপজা বোর্ড অব গভর্নর্স সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকালের সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী কেবল কৃষির ওপর নির্ভরশীল না থেকে কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক শিল্পায়নের পথে যাওয়ায় জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেপজা যথেষ্ট অবদান রেখে চলেছে। সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসছে এবং বিনিয়োগ হচ্ছে।’ তার সরকার প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা, সস্তা শ্রম ও শ্রমবান্ধব তরুণ জনগোষ্ঠী এবং দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবেও আখ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের কর্মক্ষম নবীন জনগোষ্ঠীর কারণেও বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে। এ দিকটায় আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিভিন্ন চড়াই-উত্রাই পার হয়ে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হওয়ায় এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে বলেই বিনিয়োগের ক্ষেত্রটা আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।’ প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়,’ এই নীতিমালার ভিত্তিতে চলায় আজকে সকলের সঙ্গেই বাংলাদেশের একটা সুসম্পর্ক রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র এবং পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বিদ্যুত্, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন