ঢাকা বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৬ মাঘ ১৪২৭
১৭ °সে

স্কুলে ফেরাতে ইউএনওর উদ্যোগ

স্কুলে ফেরাতে ইউএনওর উদ্যোগ

মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী

মেয়েদের স্কুলগামী করতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ ঠেকাতে এবং কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতার লক্ষ্যে তিনি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার এই পদক্ষেপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিছিয়ে পড়া মেয়েদের উপস্থিতির হার ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। নিরাপদে এবং নির্ভয়ে মেয়েরা এখন স্কুলে যাতায়াত করতে পারছে। তার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পিছিয়ে পড়া ঐসব মেয়েদের পিতামাতা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেলা রহমত উল্লাহ বলেন, প্রতিদিনই কোনো না কোনো ছাত্রী কিংবা তার মা আসত মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ-এর অভিযোগ নিয়ে। মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে। ছেলেটিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে শর্ত হলো ছাত্রী কিংবা তার মা কেউই অভিযোগকারী হতে পারবে না কিংবা অপরাধীকে জানানো যাবে না তারা অভিযোগ করছে। এই ঘটনাগুলো একটি মানসিক যন্ত্রণায় ফেলে দেয়। মোবাইল কোর্ট কিংবা আদালতে নিয়মিত মামলা কোনোটাই করা যাবে না। যেহেতু কেউ অভিযোগকারী হতে চাচ্ছে না। এই চিন্তা থেকেই বের হয় কীভাবে তা প্রতিহত করা যায় শাস্তির আওতায় না এনে। উপজেলার ৩৩টি মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ বিরোধী ব্যানার দেওয়া হলো। সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে এবং মেয়েদের উত্ত্যক্তকরণ-এর ঘটনায় তাত্ক্ষণিক ফোন করার জন্য অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি স্কুল শুরু এবং ছুটির সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে স্বয়ং কোনো না কোনো বিদ্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন যাতে বখাটেরা স্কুলের সামনে আড্ডা দিতে না পারে।

ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণ সুনিশ্চিত করার জন্য তাদের স্বাস্থ্যগত দিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। সব বিদ্যালয়ে টয়লেটসহ ভবন থাকলেও ছাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধাসহ আলাদা কোনো টয়লেট না থাকায় উপজেলা পরিচালন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের বিশ্রাম এর কক্ষসহ এটাস্ট টয়লেট স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। বিশ্রাম কক্ষে আসবাবের পাশাপাশি দুই-একটি ইনডোর গেইমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে ছাত্রীরা ক্লাসের ফাঁকে নিজেদের মতো করে খেলাধুলা এবং বিশ্রাম করতে পারবে। শুধু ছাত্রীদের জন্য টয়লেট থাকায় তারা সেটা ব্যবহার করবে। কিশোরী ছাত্রীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ছাত্রীদের বয়ঃসন্ধিকালীন সময়ে পুষ্টি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে বিভিন্ন স্কুলে এবং সভা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্যানেটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহেলা রহমত উল্লাহ বলেন, বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে এ সময় স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয় নিয়ে মেয়েরা ভয় পায়। কথা বলতে লজ্জা পায়। আমি নিজে যখন কিশোরী ছিলাম তখন এইসব সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এইসব কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সারাদেশে যদি এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তবে নারীর ক্ষমতায়ন সত্যিকারভাবে বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরো বলেন, এ উপজেলায় ৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা রয়েছে। সবগুলো বিদ্যালয়ে ১২ থেকে ১৬ বছর মেয়েদের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য পরামর্শ ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৯ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন