ঢাকা বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
২৫ °সে


বুলবুল মোকাবিলায় ভুল করা যাইবে না

বুলবুল মোকাবিলায় ভুল করা যাইবে না

বুলবুল আসিতেছে ‘প্রবল’ হইতে ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ ধারণ করিয়া। বুলবুলের বৃহত্ অংশ ভারতের ওড়িশা কিংবা পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে প্রবেশ করিবে, নাকি বাংলাদেশের সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূল ঘেঁষিয়া প্রবেশ করিবে—ইহাও এখনো নিশ্চিত করিয়া বলা সম্ভব নহে। মনে রাখিতে হইবে, ঘূর্ণিঝড়ের গতিপ্রকৃতি দৃশ্যত অত্যন্ত খামখেয়ালিপূর্ণ। নিরন্তর পরিবর্তনশীল এমন শতশত উপাদানের উপর একটি ঘূর্ণিঝড়েরর মতি-মর্জি নির্ভর করে যে, তাহা বহু ক্ষেত্রেই সম্ভাব্য পূর্বাভাসকে শেষাবধি কিয়দখানিক ভিন্ন পথে ধাবিত করে। এই মুহূর্তের পূর্বাভাস বলিতেছে, রবিবার মধ্যরাতে খুলনা অঞ্চল দিয়া বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করিতে পারে বুলবুল। অর্ধবৃত্তাকারে বাঁক লইয়া এই ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল ধরিয়া উত্তর-পূর্ব দিকে আগাইয়া যাইতে পারে। জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের বুলেটিনও একই কথা বলিতেছে। মজার ব্যাপার হইল, বুলবুল আরো একটি ঘূর্ণিবায়ুর অবশিষ্টাংশ। সুদূর প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড় মাতমো গত অক্টোবরের শেষে ভিয়েতনাম হইয়া স্থলভাগে উঠিয়া আসে। সেই ঘূর্ণিবায়ুরই অবশিষ্টাংশ ইন্দোনেশিয়া পাড়ি দিয়া ভারত মহাসাগরে আসিয়া পুনরায় নিম্নচাপের রূপ ধারণ করিয়াছে। একই সঙ্গে বারংবার দিক বদল করিয়া নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করিবার পর পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে আসিয়া গত বুধবার রাতে রূপ ধারণ করে ঘূর্ণিঝড়ের। পূর্বাভাস অনুযায়ী উপকূলে আঘাত হানিবার আগে কিছুটা কমিয়া আসিতে পারে এই ঝড়ের শক্তি। বস্তুত এই ঝড়ের প্রভাব বাংলাদেশের উপর কতখানি পড়িবে, তাহা নির্ভর করিতেছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের পর ‘বুলবুল’ কোন দিকে মোড় নেয় তাহার উপর।

প্রকৃতির প্রতিকূলতার সহিত আজন্ম যুঝিয়াই বাংলাদেশের উপকূলবর্তী মানুষকে টিকিয়া থাকিতে হয়। পলিবিধৌত বদ্বীপ হিসাবে বাংলাদেশ সমুদ্রপৃষ্ঠ হইতে খুব বেশি উঁচুতে অবস্থিত নহে। তাহা ছাড়া আমাদের রহিয়াছে ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকা। এই কারণে এই ধরনের দুর্যোগ বাংলাদেশের জন্য নূতন কিছু নহে। এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ এখন আর অপ্রস্তুত এবং অসহায় কোনো দেশ নহে। গত শতাব্দীর সত্তর এবং একানব্বইতে যখন অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় লন্ডভন্ড করিয়াছিল বাংলাদেশকে, তখন ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসের বর্তমান অত্যাধুনিক ব্যবস্থা চিন্তাই করা যাইত না। এখন একটি ঘূর্ণিঝড়কে অত্যাধুনিক বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দেশ ও সংস্থা হইতে স্বতন্ত্রভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সুতরাং এখন অনেক বেশি সূক্ষ্ম ও তুলনামূলক সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়, সতর্কতা জারি ও সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় অনেক আগে হইতেই।

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কসংকেত, প্রাথমিক চিকিত্সা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, আশ্রয়, দুর্যোগ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম, ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রভৃতি ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের মাধ্যমে আশা করা যায় বুলবুলের ছোবল আমাদের বিশেষ কোনো ক্ষতিসাধন করিতে পারিবে না। তবে গত মে মাসের ঘূর্ণিঝড়ের সময়ের মতো এইবারও আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ বুলেটিন প্রচারে ১০৯০ হটলাইন ও ওয়েবসাইটে কারিগরি জটিলতা দেখা গিয়াছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ইহা কাম্য নহে। আশা করা যায়, সময় থাকিতেই এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন