ঢাকা শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭
২০ °সে

পাবনায় কৃষিজমির উর্বরতা কমছে

পাবনায় কৃষিজমির উর্বরতা কমছে

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের

গবেষণা প্রতিবেদন

রুমী খোন্দকার, পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ফসলি জমিতে ভারসাম্যহীনভাবে আর্সেনিক, হাইড্রোজেন, ফসফরাস, নাইট্রোজেন ও দস্তার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় জেলার ৯০ শতাংশ জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। কৃষকের লক্ষ্য বেশি ফসল। পাবনার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জেলার ৯ উপজেলার ৩৮৬ স্থানের মাটির নমুনা পরীক্ষা করে ঐ তথ্য পেয়েছেন।

‘মাটির শ্রেণিকরণ, ফসল বিন্যাস ও উর্বরতা মূল্যায়ন’ শিরোনামে ঐ গবেষণা শুরু হয় ২০১৮ সালে। চলতি বছরের নভেম্বরে তা প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, ৯০ শতাংশ জমির মাটিতে ভারসাম্যহীনভাবে আর্সেনিক ও দস্তা বাড়ায় শুধু যে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে তা নয়, উত্পাদিত ফসল খাদ্য হিসেবে গ্রহণের পর তা প্রভাব ফেলছে মানুষের শরীরেও।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমির মাটিতে পাঁচ রকমের বৈশিষ্ট্যের কারণে সুজানগর ও সাঁথিয়া উপজেলায় পেঁয়াজ, চাটমোহর, সদর, ভাংগুরা, ফরিদপুর, সদর ও বেড়া উপজেলায় ধান ও কালাই, ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলায় সবজির উত্পাদন বেশি হয়।

গবেষণায় যুক্ত ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারুক হোসেন জানান, কৃষকরা না জেনে বেশি ফলনের আশায় ভারসাম্যহীনভাবে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এতে মাটিতে ফসফরাস ও গন্ধক সারের উচ্চমাত্রা তৈরি হয়েছে। সবজি প্রধান ঈশ্বরদী উপজেলার ১২৮ স্থানের মাটির নমুনা পরীক্ষা করে ৬২ শতাংশ জমিতে উচ্চমাত্রায় ফসফরাস, ৪৯ শতাংশ জমিতে উচ্চমাত্রায় সালফার ও ২৩ শতাংশ জমিতে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম পাওয়া গেছে। বেড়েছে আর্সেনিক ও জিংকের মাত্রা। ফলে জমির পাশাপাশি এসব উপাদান মানবশরীরেরও ক্ষতি করছে। তার পরামর্শ, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরিমিতমাত্রায় সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

জেলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা:রঞ্জন কুমার মিত্র ইত্তেফাককে বললেন, মাটিতে ক্ষতিকর পদার্থ থাকলে ফসলের মাধ্যমে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এতে উচ্চ রক্তচাপ, হূদরোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থাকে।

ঈশ্বরদী উপজেলার আথাইলশিমুল গ্রামের কৃষক সুরুজ আলি বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি আড়াই বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন। বিভিন্ন পদের সার ও কীটনাশক দিয়ে মোটামুটি ধান পেয়েছেন। আটঘরিয়া উপজেলার রবিউল হোসেন নামের আরেক কৃষক বলেন, তিনি মাটির গুণাগুণ বোঝেন না। সার কীটনাশক শিম জমিতে প্রয়োগ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। কেমন মাত্রায় প্রয়োগ করতে হয়, তাও জানেন না। মুরুব্বিদের দেখে নিজের আন্দাজ অনুযায়ী সার প্রয়োগ করেন। দুই জনই বললেন, এতে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয়, তা তাদের জানা নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজাহার আলী বলেন, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের সঠিক পরিমাণ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন