ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৭
২৪ °সে

রসুন রোপণে ব্যস্ত বড়াইগ্রামের কৃষকরা

রসুন রোপণে ব্যস্ত বড়াইগ্রামের কৃষকরা
বড়াইগ্রাম (নাটোর) :রসুন বোনায় ব্যস্ত নারী শ্রমিকরা —ইত্তেফাক

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

গত মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় বড়াইগ্রামের চাষিরা নিজেদের উদ্ভাবিত বিনা চাষে রসুন আবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কৃষকেরা বর্তমানে উপজেলার মাঠে মাঠে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে রসুন চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে, ব্যাপক হারে রসুন বোনার ধুম পড়ায় শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে উপজেলার রয়না ভরট হাটে প্রতিদিন সকালে নাটোরসহ পার্শ্ববর্তী পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে আসা শ্রমিকের হাট বসছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় ৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছিল। তবে এবার ১১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর বেশি। গত মৌসুমে প্রতি মণ রসুন তিন হাজার থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে উত্পাদন খরচ বাদে কৃষকরা আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভবান হয়েছেন। তাই এবারও চাষিরা ব্যাপক হারে রসুন আবাদে ঝুঁকেছেন।

কৃষকরা জানান, এ পদ্ধতিতে রসুন আবাদে জমি চাষ করতে হয় না। সাধারণত কার্তিক অগ্রহায়ণ মাসে বর্ষার পানি নেমে গেলে ধান কাটার পর নরম জমিতে বিনা চাষে রসুনের কোয়া লাগানো হয়। এ পদ্ধতিতে আগাছা কম জন্মে এবং সার কম লাগে। এছাড়া ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, রোগবালাই দমন ও অন্যান্য পরিচর্যা স্বাভাবিক রসুনের মতোই। এ পদ্ধতিতে ফলন বেশি হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ২০-২৫ মণ হারে রসুন পাওয়া যায়।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ কেজি টিএসপি, ২৫ কেজি পটাশ ও ১৫ কেজি জিপসাম ছিটানোর দুই-একদিনের মধ্যে নরম জমিতে রসুন বীজ রোপণ করতে হয়। রোপণের জন্য প্রতি বিঘা জমিতে দুই মণ রসুন লাগে। রসুন রোপণের দিনই খড় দিয়ে জমি ঢেকে দিতে হয়। এক মাস পরে সেচ দিয়ে বিঘায় ১০ কেজি হারে ইউরিয়া ও পাঁচ কেজি হারে এমওপি ছিটিয়ে দিলে ভালো ফলন হয়।

মামুদপুর গ্রামের চাষি বিদ্যুত্ কুমার জানান, গত মৌসুমে রসুন চাষ করে বেশ ভালো দাম পেয়েছি। তাই এবারো তিন বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদ বলেন, গত মৌসুমে রসুনের ভালো দাম থাকায় উপজেলার রসুন চাষিরা বেশ লাভবান হয়েছেন। এবারো সবাই রসুন চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর অধিক জমিতে রসুন চাষ হবে বলে আশা করছি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৮ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন