ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৭
২৪ °সে

রায়পুরে সুপারির খোলে বাসনসহ বিভিন্ন সামগ্রী

রায়পুরে সুপারির খোলে  বাসনসহ বিভিন্ন সামগ্রী
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) :সুপারিগাছের খোল দিয়ে তৈরি ব্যবহার্য সামগ্রী —ইত্তেফাক

এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

সুপারির গাছের ঝরে যাওয়া পাতা (খোল) দিয়ে পরিবেশবান্ধব প্লেট, সেন্ডেল, ট্রে ও বাটিসহ নানারকম তৈজসপত্র তৈরি করছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের মো. মামুনুর রশিদ। কোনো ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়া তৈরি করা এ পণ্যটি ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করছে জেলাজুড়ে।

মো. মামুনুর রশিদ রায়পুর পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরোয়া গ্রামের মানুষ। তার বাবা রায়পুরের ব্যবসায়ী মৃত আব্দুল জলিল মিয়া। শুরু থেকেই ইচ্ছা উদ্যোক্তা হবেন। ২০১৫ সালে ইউটিউবে সুপারির খোল দিয়ে পণ্য উত্পাদনের প্রযুক্তি চোখে পড়ে। ঐ থেকে শুরু হয় সুপারির খোল নিয়ে পণ্য তৈরির কাজ। লক্ষ্মীপুরে প্রচুর পরিমাণে সুপারির চাষ হয়। পরে চাকরিতে থাকা অবস্থায় ইউটিউবে দেখে দেখে সুপারি থেকে বাসন তৈরির মেশিন স্থানীয় কারিগর দিয়ে মামুন নিজেই তৈরি করান।

মীরগঞ্জ সড়কের তুলাতলি নামকস্থানে এ ধরনের বাসন তৈরির কারখানা স্থাপন করেন মামুন। পরে তার কারখানায় প্রথম তৈরি করা বাসন তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে ব্যাপকভাবে শুরু করেন। চলতি বছরের নিউজিল্যান্ড থেকে জেরিক নামে একজন বায়ার এসে পণ্য দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে মামুন বলেন, ঝরে যাওয়া পাতা দিয়ে শতভাগ পরিবেশবান্ধব পণ্য শুধু আমার আয়ের উত্সই হবে না, পরিবেশ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখবে। এক সময় প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে মানুষ এই পণ্য ব্যবহার করবে বলেও আশা ব্যক্ত করেন তিনি। আর এটি শিল্প হিসেবে দাঁড়ালে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।

মামুন আরো বলেন, পুঁজির সংকটতো আছেই। তবুও কারখানা বড়ো করার কাজও শুরু করেছি। অনলাইন ও পরিচিতদের মধ্যে মার্কেটিং করছি। বর্তমানে জাপানের এক বায়ারের সঙ্গে এই পণ্য রপ্তানির কথা চলছে। বায়ার কিছু পণ্য জাপানে নিবেন। এখন সুপারির পাতা নষ্ট হচ্ছে কিন্তু এমন এক সময় আসবে যখন মানুষ বিক্রির উদ্দেশ্যেই সুপারির খোল বাগান থেকে ঘরে এনে যত্ন করে রাখবে।

বর্তমানে কারখানাটিতে কাজ করছেন ১২ জন। সাত ধরনের প্লে­ট, লাঞ্চবক্স, বাটি, সেন্ডেল ও ট্রে উত্পাদন হচ্ছে কারখানাটিতে। সুপারির খোলের আরো নতুন নতুন পণ্য তৈরি করার ইচ্ছা আছে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, রায়পুরে বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক আকারে সুপারি উত্পাদিত হয়, কিন্তু সঠিক ব্যবহারের অভাবে এর পাতা (খোল) বিনষ্ট বা সাধারণ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হয়। কিন্তু সুপারির খোল দিয়ে পণ্যসামগ্রী উত্পাদন এবং রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন অধ্যায় করেছেন মামুন। মামুনের তৈরি পণ্য আমি নিজেও ব্যবহার করছি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৮ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন