ঢাকা শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২০ °সে

ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে কুমিল্লা নগরী

ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে কুমিল্লা নগরী
কুমিল্লা :নগরীর উত্তর আশ্রাফপুর এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন —ইত্তেফাক

অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ!

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় দ্রুতগতিতে গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ নগরায়ন। নগরীর আনাচেকানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো একের পর এক গড়ে তোলা হচ্ছে নকশা অনুমোদনবিহীন ও অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত অসংখ্য ভবন। অনেকে যোগসাজশে পুকুর, ডোবা ও জলাধার ভরাটের মাধ্যমে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন না করে, কেউবা সরু রাস্তা প্রশস্ত দেখিয়ে নকশা অনুমোদন নিয়ে চারপাশে জায়গা ছাড় না দিয়ে, প্রতিবেশীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) কর্তৃক নোটিশ দেওয়া হলেও তা কাগজেকলমেই থেকে যাচ্ছে।

কুসিকের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাসে অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত ৮৫টি ভবন এবং নকশা অনুমোদনবিহীন ৯টিসহ মোট ৯৪টি ভবনের তালিকা করে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভবনে ‘এই ভবন অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত, জনসাধারণকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো’- লিখে লাল রঙয়ের ব্যানার টানিয়ে দিয়ে ভবনের মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গেলে নগরীর উত্তর আশ্রাফপুর (হালুয়াপাড়া) এলাকার মো. ইউসুফ, মো. ইউনুছ ও স্থানীয় অন্তত আট জন বাসিন্দা বলেন, ‘ঐ এলাকায় এক ব্যক্তি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। ঐ ভূমি বিএস খতিয়ানে এখনো পুকুর শ্রেণিভুক্ত, কয়েক বছর আগে এটি ভরাট করা হয়েছে। সেখানে প্রবেশের পর্যাপ্ত রাস্তা নেই। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশন থেকে গত ৩ অক্টোবর ঐ ব্যক্তি বরাবরে চূড়ান্ত নোটিশ প্রেরণের প্রায় দেড় মাস অতিক্রান্ত হলেও ভবনের নকশা বহির্ভূত অংশ ভেঙে অপসারণ করা হয়নি।’

এদিকে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রমিজ খান, শিক্ষক নেতা একেএম মাসুদ ভূঁইয়া, সিনিয়র আইনজীবী মিজানুর রহমানসহ অন্তত আট জনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইন অমান্য করে নির্মিত অসংখ্য ভবন রয়েছে। এছাড়া পুকুর, খাল-বিল, ডোবা-নালা ভরাট করে একের পর এক গড়ে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন। দ্রুতগতিতে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে নগরজীবন।’

কুসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শেখ মো. নুরুল্লাহ বলেন, ‘নগরীর উত্তর আশ্রাফপুর এলাকার এক ব্যক্তিকে তিন দিনের মধ্যে নির্মাণাধীন ভবনের নকশা বহির্ভূত অংশ ভেঙে অপসারণের জন্য গত ৩ অক্টোবর চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি তা এখনো করেনি। সহসা আইন অনুযায়ী তার নকশার অনুমোদন বাতিলসহ সিটি করপোরেশন কর্তৃক ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অবৈধ নির্মাণ কাজ ভেঙে অপসারণ করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নকশা অনুমোদনবিহীন ও অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত মোট ৯৪টি ভবনের তালিকা করা হয়েছে।’ কুসিক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘জায়গার মালিকেরা ভবন নির্মাণের জন্য এক ধরনের নকশা অনুমোদন করিয়ে নেন, কিন্তু পরে তারা ঐ নকশার ধারে-কাছেও থাকছেন না। তারা দুই-তিন তলা বাড়িয়ে ভবন নির্মাণ করছেন। বিল্ডিং কোড অমান্যকারী ভবন মালিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন