ঢাকা শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অ্যানেস্থেসিয়া, গাইনি ও সার্জারি কনসালট্যান্টের পদ শূন্য

চালু হয়নি ওটি
অ্যানেস্থেসিয়া, গাইনি ও সার্জারি কনসালট্যান্টের পদ শূন্য
রামগড় (খাগড়াছড়ি) : উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারে মূল্যবান যন্ত্রপাতি —ইত্তেফাক

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) মধ্যে একটি ১৬ বছর ও অপর দুটি ৬ বছরেও চালু হয়নি। অন্যদিকে, ৩০০ এমএম ক্ষমতাসম্পন্ন একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি ১৩ বছর ধরে অব্যবহূত অবস্থায় থেকে এখন সম্পূর্ণ অকেজো। অ্যানেস্থেসিয়া, গাইনি ও সার্জারি বিভাগের তিন জন কনসালট্যান্ট ও তাদের সহযোগী পোস্টিং দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে।

এদিকে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। অপারেশন থিয়েটারসহ কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন মূল্যবান চিকিত্সা সরঞ্জাম পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখে সেগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে ৩১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কোরিয়ার তৈরি ৩০০ এমএম ক্ষমতাসম্পন্ন একটি এক্স-রে মেশিন দেওয়া হয়। মেশিনটি ২০০৬ সালের জুন মাসে এক্স-রে রুমে স্থাপন করা হয়। কিছুদিন মেশিনটি সচল থাকার পর আকস্মিকভাবে অচল হয়ে পড়ে। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রকৌশলী এসে মেশিনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এটি মেরামত করতে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরবর্তী সময়ে এক্স-রে মেশিনটি সচল করার আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এক্স-রে রুমের এসিসহ এক্স-রে ফ্লিম, ফিকচার ডেভেলপার, ক্যাসেট, ডায়ার কেভিনেট, হেংগার, লিড এফরোল, ভিউ বক্স ইত্যাদি সরঞ্জামও নষ্ট হয়ে গেছে। এক্স-রে মেশিনটি অকেজো থাকায় এক্স-রে টেকনিশিয়ানকে অন্য কাজে নিয়োজিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি অপারেশন থিয়েটারের মূল্যবান সরঞ্জামও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এদিকে লেবার রুমে প্রসবকালীন যাবতীয় সরঞ্জাম থাকলেও গাইনি ডাক্তার না থাকায় লেবার বিভাগ চালু করা যাচ্ছে না। ফলে অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থেকে লেবার বিভাগের সরঞ্জামও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালের একটি মাত্র ইসিজি মেশিন কয়েক বছর ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। একইভাবে সাকার মেশিন ও জরুরি বিভাগের স্টেলাইজেশন বা জীবাণুমুক্তকরণ মেশিনও দীর্ঘদিন যাবত্ অকেজো।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিনাত রেহানা বলেন, অপারেশন থিয়েটার চালু করতে হলে অ্যানেস্থেসিয়া, গাইনি ও সার্জারি বিভাগের কমপক্ষে তিন জন কনসালট্যান্ট ও তাদের সহযোগী পোস্টিং থাকতে হবে। কিন্তু এ হাসপাতালে পদগুলো দীর্ঘদিন যাবত্ শূন্য। ফলে অপারেশন থিয়েটার চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, গত অক্টোবরে ঢাকা থেকে একজন ইঞ্জিনিয়ার এসে এক্স-রে মেশিনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেছেন এটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। তিনি জানান, অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থাকা চিকিত্সা সরঞ্জাম ও এক্স- রে মেশিন সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন