ঢাকা শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬
১৯ °সে

সমবায়ে সরকার ও প্রভাবশালীরা মালিকানায় ভাগ বসায়

‘প্রচলিত সমবায় আইন সংস্কার এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের অধিকার’ শীর্ষক সেমিনার
সমবায়ে সরকার ও প্রভাবশালীরা মালিকানায় ভাগ বসায়

বর্তমানে সমবায়কে স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া হচ্ছে না এবং এই আইনের অপব্যবহার হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, এখনকার সমবায়গুলো ব্যবসাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। পৃথিবীর অনেক দেশে সমবায়কে সহযোগিতা করার জন্য মনিটরিং করা হয়। কিন্তু এই রেওয়াজ আমাদের দেশে নেই। আছে শুধু কর্তৃত্ব।

গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘প্রচলিত সমবায় আইন সংস্কার এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের অধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা বলেন, যেটুকু সমবায় গড়ে ওঠে, তাতে সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মালিকানায় ভাগ বসান। ফলে দেখা যায় মত্স্যজীবী সমবায়ে অমত্স্যজীবীর দৌরাত্ম্য। অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রওশন আরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সম্মানিত অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। এতে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন এবং এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এতে সমবায় আইনের একটি পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রিজওয়ানুল ইসলাম। এতে তিনি বর্তমান সমবায় আইনের সংস্কারের জন্য ১৩টি সুপারিশ তুলে ধরেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, শুধু আইন সংস্কারের কথা বললে হবে না। এটাকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, এখনকার সমবায়গুলো ব্যবসাকেন্দ্রিক হয়েছে, এটি সমবায়ের দর্শনকে লালন করছে না। তিনি কৃষিজাত পণ্য উত্পাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে সমবায়কে মূল ভূমিকায় থাকার বিষয়ে জোর দেন। তিনি বলেন, সমবায় আইনটি বর্তমানে কর্তৃত্বমূলক হয়ে গেছে, যার সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।

আবু সাঈদ খান বলেন, বর্তমানে সমবায়কে স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া হচ্ছে না এবং এ আইনের অপব্যবহার হচ্ছে। শামসুল হুদা বলেন, বর্তমান সমবায় আইনটি সমবায় গঠনের অন্তরায়। সাধারণ মানুষের সমবায়কে এই আইন স্বীকৃতি দেয় না। মানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্য এই আইন সংস্কার করা জরুরি। ড. আবুল হোসেন বলেন, সমবায়ের আলোচনা শুধু আইনের ভাষা দিয়ে হবে না। সমবায়ের বিবর্তনের বিষয়টিকে লক্ষ্য হিসেবে রাখতে হবে।

অধ্যাপক ড. রওশন আরা বলেন, সমবায় আইনের সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছাড়া আইন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। পল্লি ঋণের জন্য সমবায়কে গুরুত্ব দেওয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রকৃত কৃষক, ভূমিহীন, তাঁতি, মত্স্যজীবীরা সমবায়ের নিবন্ধন ও সুবিধা পান না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন