ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬
২৬ °সে

অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে

সিল্ক রোড ফোরাম আয়োজিত সংলাপে বক্তারা
অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। দুই দেশের ভিন্ন শাসন ব্যবস্থা চালু থাকলেও চীনের দারিদ্র্য বিমোচনের অভিজ্ঞতা, পরিবেশকে বাঁচিয়ে অবকাঠামোর উন্নয়নসহ বাজার অর্থনীতির মতো বিষয়গুলো থেকে বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। গতকাল রবিবার একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চায়না সিল্ক রোড ফোরামের আয়োজনে ‘মর্ডানাইজেশন অব সিস্টেম অ্যান্ড ক্যাপাসিটি ফর গভর্নেন্স-এ চাইনিজ এক্সপেরিয়েন্স’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এ কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। চায়না সিল্ক রোড ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত সংলাপে আরো বক্তব্য দেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, এমপি, সাবেক বিজ্ঞান এবং তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রমুখ। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এম্বাসেডর মুন্সি ফয়েজ আহমেদ।

সংলাপে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাস্তব রাজনীতির মূল সমস্যা হলো দারিদ্র্য। ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার ফলে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণমুখী উদ্যোগ রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন গ্রামের প্রতি সুবিচার করা হয়নি। এজন্য এখন গ্রামকেন্দ্রিক অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। চীনা বিপ্লবের পর যেমন নিরক্ষরতা দূরীকরণ এবং বিদ্যুতায়নকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল, তেমনি আমরাও সারাদেশে বিদ্যুত্ পৌঁছে দিচ্ছি। চীনের কাছ থেকে শেখার আছে। আমরা গত দশ বছরে দারিদ্র্য হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে এনেছি। এখন প্রতি পাঁচ জনে এক জন দরিদ্র। আমরা আগামী পাঁচ-সাত বছরে এ সংখ্যা দশে এক জনে নামিয়ে আনতে পারব। তিনি বলেন, চীন আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। আমরা তাদের কাছে যতটা সহায়তা চাই, তার চেয়ে বেশি অর্থ দিতে তারা প্রস্তুত।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে চীনা সরকার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পেরেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে। তবে শুধু শাস্তিই নয়, সরকারি দপ্তর, শিক্ষার্থী সবস্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করা হয়েছে, এর সুফল পাওয়া গেছে।

সভাপতির বক্তব্যে দীলিপ বড়ুয়া বলেন, সুশাসন ও অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন হলো ডিজিটাল, শিল্পসমৃদ্ধ একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এ প্রেক্ষিতে চীনের উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি রয়েছে। ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক সরকার সংবিধানের সমাজতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। আমাদের আবার ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তথাকথিত মুক্তবাজার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার কারণেই দেশে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যত উন্নয়ন করি না কেন দুর্নীতি রেখে এর সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। প্রশাসনসহ সব পর্যায়ে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, সুশাসন ছাড়া সরকার অর্থহীন। তাই সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আবুল মকসুদ বলেন, পরিবেশকে রক্ষা করে কীভাবে উন্নয়ন করা যায় তার চমত্কার উদাহরণ হলো চীন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের জিরো টলারেন্স আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। তারা কীভাবে মার্কেট ইকনোমি চালু করেছে, কীভাবে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে সেগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন