ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৭
১৫ °সে

সবজি

শাক আলুর সাতকাহন

শাক আলুর সাতকাহন

শাক আলু এক ধরনের মূলজাতীয় সবজি। এর পাঁচটি প্রজাতি আছে। Pachyrhizus tuberosus প্রজাতিটি বাংলাদেশে প্রচলিত। আলুর মতো গড়ন হলেও শাক আলু একদিকে ফলের মতো কাঁচা খাওয়া হয়, অন্যদিকে সবজির মতো রান্নাও করা যায়।

শাক আলুর উত্পত্তি মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা। ধীরে ধীরে চীন, ফিলিপিন, ভারত প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে শাক আলুর চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, যশোর প্রভৃতি জেলায় শাক আলুর চাষ করা হয়।

শাক আলু চিরহরিত্ লতাজাতীয় শিম গোত্রীয় ফসল। এর লতা পাঁচ থেকে ছয় মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। অন্য কোনো গাছকে অবলম্বন করে বেড়ে ওঠে। শিম গাছের মতোই পাতা ও লতা হয়। শিমের চেয়ে পাতা বড়ো ও পুরু। পাতা লম্বার চেয়ে চওড়া বেশি। শিমের মতোই লম্বা ছড়ায় ফুল ফোটে। ছড়া ৪৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ফুলের রং নীলচে বা হালকা নীল ও সাদাটে। ফলও শুঁটির মতো, চ্যাপটা ও পশমযুক্ত। প্রতিটি শুঁটি বা ফলে আট থেকে দশটি বীজ থাকে। পাকা বীজের রং হালকা বাদামি। বীজ থেকে গাছ হয়। পোকা-মাকড়ের মাধ্যমে এর পরাগায়ন ঘটে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে বীজ বপন করে নভেম্বর থেকে মে মাসের মধ্যে আলু তোলা যায়। গাছের গোড়ায় মাটির নিচে নাশপাতি বা শালগমের মতো ফোলা আলু হয়। একটি গাছে পাওয়া যায় দুই বা ততোধিক আলু। প্রতিটি আলু ১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। এই আলুর খোসা কাগজের মতো ও হালকা বাদামি বা হলদে। ভেতরের শাঁস কচকচে ও সাদা। অত্যন্ত রসালো ও মিষ্টি। খোসা টান দিলে সহজে উঠে আসে। খোসা ছাড়িয়ে কাঁচা খাওয়া হয়। এই আলুর গা ঠান্ডা বলেই পাহাড়িরা একে ‘ঠান্ডা আলু’ বলে থাকে। কাঁচা চিবিয়ে খাওয়ার সময় প্রচুর পানি বের হয়। এজন্য কেউ কেউ শাক আলুকে ‘জলপান আলু’ বলে থাকেন।

শাক আলু পুষ্টিকর ও সুমিষ্ট সবজি। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম শাক আলুতে ৮০.২৫ গ্রাম পানি, ০.৫ গ্রাম খনিজ লবণ, ১.৬ গ্রাম আমিষ, ০.১ গ্রাম চর্বি, ১৭ গ্রাম শর্করা, ০.৬ গ্রাম আঁশ, ১১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং কিছু পরিমাণ ভিটামিন এ, বি ও সি রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা শাক আলুতে থাকে ২.১ থেকে ১০.৭ গ্রাম স্টার্চ। শাক আলু গাছে যে শিম হয় তাতে আমিষের পরিমাণ ৩২ শতাংশ। শিম খাওয়া যায়। পাতায় ২০-২৪ শতাংশ আমিষ থাকে এবং খাওয়া যায় পাতাও। তাছাড়া এতে ৭৫ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি থাকে। আমাদের দেহের পুষ্টি সাধনে এসব উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শাক আলুতে আঁশ থাকায় এটি হজমের কাজে সহায়তা করে। তাই পর্যাপ্ত শাক আলু খেলে কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে।

প্রধানত শাক আলু লোকে কাঁচা খায়। কোনো কোনো দেশে এটি টুকরো টুকরো করে কেটে লবণ, লেবুর রস ও মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে সুস্বাদু করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে শাক আলু সবজি ও সালাদ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সালাদ তৈরিতে এই আলুর যথেষ্ট কদর রয়েছে। তবে শাক আলু কাঁচা খেলে ভিটামিন বা খাদ্যমানের অপচয় হয় না।

বাংলাদেশে শাক আলু অপ্রচলিত সবজি। অথচ লাভজনক ফসল। উত্পাদন খরচ খুব কম। বীজ বপনের ৭/৮ মাস পর থেকে শাক আলু সংগ্রহ করা যায়। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৫ থেকে ২০ টন উত্পন্ন হয়। সুতরাং দেহের পুষ্টিসাধন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ দারিদ্র্যবিমোচনে শাক আলুর আবাদ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৮ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন