ঢাকা বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬
৩৪ °সে


রেজা ঘটকের চলচ্চিত্র 'হরিবোল' আসছে নভেম্বরে

রেজা ঘটকের চলচ্চিত্র 'হরিবোল' আসছে নভেম্বরে
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নির্যাতিত এক নারীর ঘটনা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘হরিবোল’।

সংখ্যালঘু প্রান্তিক পরিবারের সমাজ দ্বারা নীপিড়নের গল্পে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র ‘হরিবোল’। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নির্যাতিত এক নারীর সত্য ঘটনা অবলম্বনে একজন তরুণ নির্মাতা একটি সিনেমা নির্মাণ করতে গ্রামে যান। সেই গ্রামেই সন্ধান পান এই নিপীড়িত পরিবারের। গল্পের ভেতরে অন্য এক নতুন গল্প। মূলত এরকম এক আখ্যানকে উপজীব্য করেই নির্মিত হচ্ছে সিনেমা ‘হরিবোল’। পাশাপাশি প্রান্তিক গ্রামের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য ‘হরিবোল’ ছবিতে নানাভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা রেজা ঘটক। ছবির কাহিনী, সংলাপ ও চিত্রনাট্য করেছেন নির্মাতা রেজা ঘটক নিজেই। আর চলচ্চিত্রটি নিবেদন করেছেন আনিসুজ্জামান।

'হরিবোল' চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে নির্মাতা রেজা ঘটক বলেন, ‘ফারাক্কা বাঁধের পর পদ্মা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বলেশ্বর নদ ও তার শাখা-প্রশাখাগুলো ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। বলেশ্বর নদের তীরবর্তী জনপদের সেই দুঃখ-দুর্দশা, হতাশা-প্রত্যাশা, ভালোবাসা ও প্রচলিত জীবনযাপন ‘হরিবোল’ ছবি’র প্রেক্ষাপট। একটি সংখ্যালঘু পরিবার সমাজ কর্তৃক নিগৃহীত হয়ে কীভাবে ধীরে ধীরে মরা বলেশ্বরের মত নিঃস্ব হয়ে যায়, সেই কাহিনী এই ছবিতে ফুটে ওঠে।

ছবিতে আমি দুটি গল্পকে সমান্তরালভাবে মার্চ করিয়েছি। মহান মুক্তিযুদ্ধের গল্পের সাথে একটি সংখ্যালঘু প্রান্তিক পরিবারের উপর নেমে আসা প্রচলিত সমাজের নিপীড়নের চিত্র এতে ধরা হয়েছে। বড় ক্যানভাসে 'হরিবোল' একটি জনপদকে রিপ্রেজেন্ট করে। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের উপর 'হরিবোল' একটি বিশেষায়িত চলচ্চিত্র। 'হরিবোল' চলচ্চিত্রের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি যেমন একটি নদী বিষয়ক চলচ্চিত্র, আবার তেমনি এটি একটি পরিবেশ বিষয়ক চলচ্চিত্র।

'হরিবোল' চলচ্চিত্রটি সম্পাদনা করেছেন প্রণব দাস। মিউজিক কম্পোজ করেছেন অংশুমান বিশ্বাস। সাউন্ড ডিজাইন করেছেন অরিজিৎ মিত্র। সংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন বাউল সফি মণ্ডল, সাত্যকি ব্যানার্জি, অংশুমান, নলীনি মণ্ডল প্রমুখ। সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন মোস্তাফিজ ইসলাম, সেলিম হায়দার, জাহিদ হাসান, প্রণব দাস ও রেজা ঘটক। স্থিরচিত্র ধারণ করেছেন দেবাশিষ গুপ্ত, চিন্ময় চক্রবর্তী ও জাহিদ রবি।

‘হরিবোল’ চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী ফয়সল, ইকতারুল ইসলাম, তৃপ্তি সরেন, সেলিম হায়দার, এমরান হোসেন, জাহিদ হোসেন, প্রণব দাস, লিয়াকত মোস্তফা লিকু, আলী ইউসুফ ববি, নলিনী মণ্ডল, রণজিৎ কুমার মণ্ডল, বিধান চন্দ্র বিশ্বাস, এমদাদুল হক হাওলাদার, মনোজ কুমার মন্ডল, যতীন্দ্র নাথ নাগ, শুকুরঞ্জন মোলোঙ্গী, মুক্তি মণ্ডল শেলী, ইলিয়াস খান, গৌতম কুমার মণ্ডল, প্রেমানন্দ আকার্শন, অনাদী বালা, জাকির হোসেন হাওলাদার, স্বপন পাল, জীবন কৃষ্ণ ঘরামী, সুনীল কুমার মণ্ডল, আরিফুল ইসলাম শিপুল, আকাশ সিংহ, অনিক, চন্দন, উৎস, অমিত, শুভ, সৈকত, সোহাগ প্রমুখ।

বর্তমানে 'হরিবোল' চলচ্চিত্রটির পোস্ট প্রোডাকশন কাজ প্রায় শেষের দিকে। ‘হরিবোল’ ছবিটি প্রযোজনা করেছে ‘বলেশ্বর ফিল্মস’। চলচ্চিত্রটি নিবেদন করেছেন আনিসুজ্জামান। আর চলচ্চিত্রটি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত এক ঝাঁক চৌকশ তরুণের সমন্বয়ে গঠিত ‘টিম বলেশ্বর’-এর একটি ফিল্ম ইউনিট। নির্মাতা রেজা ঘটক আশা করছেন সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই ছবিটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। সেন্সরবোর্ড থেকে ছাড়পত্র পাওয়া সাপেক্ষে আগামী নভেম্বর মাসে 'হরিবোল' চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন