ঢাকা শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬
২১ °সে

মুজিব শতবর্ষে মৃতদেহ থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপন শুরুর উদ্যোগ

মুজিব শতবর্ষে মৃতদেহ থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপন শুরুর উদ্যোগ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা। ছবি: ইত্তেফাক

দেশে প্রথমবারের মত মৃত্যুর পরে দান করা শরীর থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপন মুজিব শতবর্ষ থেকে শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মঙ্গলবার সকালে ‘মরণোত্তর দেহদান ও সংযোজন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, মৃত্যুর পরে দান করা শরীর থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। সচেতনতার অভাবে মানুষের আগ্রহ জন্মায়নি। এর ফলে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়াটি ফলপ্রসূ হয়ে ওঠেনি বলে দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে কিডনি ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন, সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন ও ইউরোলজি অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টেশন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, দেরিতে শুরু হলেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় । মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা মরণোত্তর দেহদান নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করতে পারেন। এ জন্য সবার সহযোগিতা দরকার। মরণোত্তর দেহদানবিষয়ক আইনের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিএসএমএমইউর সহ-উপাচার্য রফিকুল আলম বলেন, আমরা মৃতদেহ থেকে কিডনি প্রতিস্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছি। উন্নত বিশ্বে ৯০ ভাগ কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় মৃত ব্যক্তির দেহ থেকে। আমরাও সেদিকে এগোচ্ছি।

মরণোত্তর অঙ্গদান ও সংযোজন নিয়ে উপস্থাপনায় কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হারুন আর রশিদ বলেন, একটি মৃতদেহের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করে আটজনের জীবন বাঁচানো যেতে পারে। মৃতদেহের ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড, যকৃৎ, মূত্রগ্রন্থি, অগ্ন্যাশয় ও খাদ্যনালির নিম্নাংশ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে মৃতদেহ থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করুন: ডেপুটি স্পিকার

সোসাইটি অব অর্গান ট্রান্সপ্লান্টেশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, উন্নত বিশ্বে ৬০ ভাগ রোগী মরণোত্তর কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছে। ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশে কিডনি সংযোজন ও ডায়ালাইসিস সেবা চালু আছে। অপ্রতুল জীবিত কিডনি বা দাতার অভাবে রোগীরা কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারছেন না। ইসলাম ধর্মে এ–সংক্রান্ত বাধা বা নিষেধ নেই।

ইউরোলজি অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্টেশন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক এম এ সালাম বলেন, মরণোত্তর অঙ্গদান বহু মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়ক হবে। এর জন্য প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা। যাঁরা অঙ্গ দান করবেন, তাঁদের জাতীয়ভাবে মর্যাদা দেওয়া হলে এটি আরও মানুষের মধ্যে উৎসাহ বাড়াবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বিএসএমএমইউর অধ্যাপক এ কে এম আক্তারুজ্জামান, অধ্যাপক এ কে এম খুরশিদুল আলম প্রমুখ।

ইত্তেফাক/আরআই

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন